
আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম দেশ সুদান—আয়তন ১৯ লাখ বর্গকিলোমিটার—তিন বছর ধরে বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত। দেশটির সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আধা সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ)-এর ক্ষমতা দখলের সংঘাত বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাস্তুচ্যুতি সংকট তৈরি করেছে। সুদানের ১৮টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৯৫ লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন, এবং লাখ লাখ মানুষ অনাহারের মুখে।
প্রচুর তেল, সোনা ও উর্বর কৃষিজমির দেশ হলেও চলমান যুদ্ধ বিস্তীর্ণ সম্পদকে মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দিয়েছে।
সেনাবাহিনী (এসএএফ)
সুদানের উত্তরাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল, রাজধানী খার্তুম, নীল নদের তীরবর্তী শহরগুলো এবং লোহিত সাগরের বন্দর পোর্ট সুদান নিয়ন্ত্রণে আছে।
রাসেফ (আরএসএফ)
পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুর অঞ্চল শক্তভাবে দখলে। ২৬ অক্টোবর তারা উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশের দখল নেয়। প্রায় ১৮ মাস অবরোধের পর এ শহর তাদের নিয়ন্ত্রণে যায়।
২০২৩ সালে সুদানের মোট রপ্তানি আয় ছিল ৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে—
অপরিশোধিত তেল: ১.১৩ বিলিয়ন ডলার
সোনা: ১.৩ বিলিয়ন ডলার
প্রাণিজ পণ্য: ৯০২ মিলিয়ন ডলার
তেলবীজ: ৭০৯ মিলিয়ন ডলার (এর মধ্যে তিলের রপ্তানি ৬১৩ মিলিয়ন ডলার)
গাম অ্যারাবিক: ১৪১ মিলিয়ন ডলার
সুদান বিশ্বের সবচেয়ে বড় তিল রপ্তানিকারক এবং সবচেয়ে বড় গাম অ্যারাবিক সরবরাহকারী।
দেশের ৫১.৪% ভূমি চরাঞ্চল, যেখানে গবাদিপশুসম্পদের প্রধান কেন্দ্র।
বর্তমানে এই অঞ্চল সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে প্রায় সমান ভাগে বিভক্ত।
উত্তরের চরাঞ্চলে রয়েছে বিখ্যাত গাম অ্যারাবিক বেল্ট—গাম সংগ্রহের মূল এলাকা।
সবচেয়ে উর্বর চাষযোগ্য অঞ্চল গেজিরা, ব্লু নাইল ও হোয়াইট নাইলের মধ্যবর্তী এলাকা—এই অঞ্চল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
সুদানের প্রধান আয়ের উৎস অপরিশোধিত তেল।
২০১১ সালে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতার পর দেশের ৭৫% তেলক্ষেত্র দক্ষিণে চলে যায়, ফলে উৎপাদন ধসে পড়ে।
২০২৩ সালে দৈনিক উৎপাদন নেমে আসে ৭০ হাজার ব্যারেলে।
২০২4 সালে সুদানের রিজার্ভ—
তেল: ১.২৫ বিলিয়ন ব্যারেল
গ্যাস: ৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (তবে গ্যাস ব্যবহার/উৎপাদন হয় না)
নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি
দক্ষিণাঞ্চলের বেশির ভাগ তেলক্ষেত্র বর্তমানে আরএসএফের দখলে।
প্রধান তেল শোধনাগার খার্তুম (ক্ষমতা—১ লাখ ব্যারেল/দৈনিক) সেনাবাহিনীর হাতে।
পোর্ট সুদান শোধনাগারও সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন।
দক্ষিণ থেকে পোর্ট সুদানের বাশায়ের টার্মিনাল পর্যন্ত তেল পাইপলাইনের বড় অংশ সেনাবাহিনীর দখলে।
সুদান আফ্রিকার শীর্ষ সোনা উৎপাদনকারী দেশগুলোর একটি।
পূর্ব সুদানের বেশিরভাগ খনি সেনাবাহিনীর দখলে।
কেন্দ্র ও দক্ষিণ–পশ্চিমাঞ্চলীয় খনিগুলোর বেশিরভাগ আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে।
২০২৪ সালে বৈধভাবে উৎপাদন হয় ৬৪ টন সোনা, যা ২০২২ সালের তুলনায় ৫৩% বেশি। বৈধ রপ্তানি থেকে আয় আসে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার।
তবে সোনার বড় অংশই কালো বাজারে বিক্রি হয়।
২০২৩ সালে সুদানের ৯৯% সোনা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে।
সুদানের ৮০% রপ্তানি এশিয়ায়।
২০২৩ সালের প্রধান বাণিজ্য অংশীদাররা—
সংযুক্ত আরব আমিরাত — ১.৯ বিলিয়ন ডলার (২১%, প্রধানত সোনা)
চীন — ৮৮২ মিলিয়ন ডলার (১৭%, কৃষিজ পণ্য)
সৌদি আরব — ৮০২ মিলিয়ন ডলার (১৬%, গবাদিপশু)
মালয়েশিয়া — ৪৭০ মিলিয়ন ডলার (৯%, তেল)
মিশর — ৩৮৭ মিলিয়ন ডলার (৭.৬%)
এই পাঁচ দেশেই সুদানের মোট রপ্তানির দুই–তৃতীয়াংশ যায়।