সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। টানা সাড়ে ছয় ঘণ্টার অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে মোট ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২৭টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের সদস্য এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা উপস্থিত থেকে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার পরগনা, পরগনা বাজার, লাঠিগ্রাম, বেড়াবিল, উত্তর প্রতাপপুর, দক্ষিণ প্রতাপপুর ও লুনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট এবং সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানকালে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২৩ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অপর ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২৭টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়।
অভিযান শেষে গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকারিয়া হোসেন বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আজকের অভিযানে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ২৭টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। নদী, পরিবেশ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় কোনো ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বরদাশত করা হবে না।’