ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আব্দুল খালেকের একটি কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে ঘুষের টাকা না পেয়ে তিনি এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে।
৩১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি গোপনে প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওটি প্রথম প্রকাশ করা হয় স্থানীয় সাংবাদিক নিজাম নকিবের ‘নগদ খবর’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিজাম নকিব জানান, গত মঙ্গলবার এক ব্যক্তি তাঁর কাছে ভিডিওটি পাঠান। ভিডিওটি একই দিন ধারণ করা বলে ওই ব্যক্তি জানান। যদিও তিনি নিজের নাম ইমতিয়াজ আসিফ বললেও অন্য পরিচয় প্রকাশ করেননি।
ভিডিওতে দেখা যায়, কাজের বিলের ফাইলে স্বাক্ষরের সময় এর আগে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠে। এ ছাড়া নতুন করে আরও পাঁচ হাজার টাকা না দেওয়ায় প্রকৌশলী ফাইল নিয়ে গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে প্রকৌশলীকে পকেটে রাখতে দেখা যায়।
ভিডিওতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, রাখেন এইটা স্যার। বিলের ফাইল ছাড়ার সময় ৪৫ হাজার টাকা নিলেনই আপনি আমার কাছ থেকে। রাখেন স্যার, তিন হাজার টাকা রাখেন, পাঁচ হাজার টাকা নাই।’
এর জবাবে প্রকৌশলী আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমি সই করব, তারপর ইউএনও সই করবে। আমি সই না করলে ইউএনও (ফাইলে) সই করবে না।’
ভিডিওটির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশলী আব্দুল খালেক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এক বদমাশ ভিডিওটি করেছে। আমি তাকে চিনিও না, জানিও না। আন্দাজে কী কয় কী হয়, যা পারে করুক। এগুলো নিয়ে এখন আর কিছু বলার নেই।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহরাজ শারবীন বলেন, ‘ভিডিওটি আগের। আমি এটি দেখেছি। এ ছাড়া আমি নতুন যোগদান করেছি। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এলজিইডিতে লিখিত অভিযোগ দিলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’