চবি প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রশাসন বিরোধী তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন পালন করছে সংগঠনটি।
দুপুর পৌনে ২টা পর্যন্ত পাওয়া সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, নেতা-কর্মীরা এখনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
মূল অভিযোগ ও উপ-উপাচার্যের মেয়ের নিয়োগ
আন্দোলনরত ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান প্রশাসন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিচ্ছে। চবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্যের মেয়ে কীভাবে নিয়োগ পায়? এই প্রশাসন মেধার অবমূল্যায়ন করে কেবল নিয়োগ বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতিতে ব্যস্ত। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে ভুলুণ্ঠিত করেছে।”
চার দফা দাবি
আন্দোলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি পেশ করা হয়েছে: ১. নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের দায়ে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের অবিলম্বে পদত্যাগ। ২. উপ-উপাচার্যের কন্যাসহ সব বিতর্কিত ও অবৈধ নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা। ৩. ইউজিসির নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন এবং শাস্তি নিশ্চিত করা। ৪. বিভাগীয় পরিকল্পনা কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দেওয়া সব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার এবং স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা।
আন্দোলনে নেতৃত্বের অংশগ্রহণ
অবস্থান কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়সহ বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ‘অবৈধ’ নিয়োগ বাতিল করা না হয় এবং বিতর্কিত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পদত্যাগ না করেন, তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট এই অস্থিরতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার জন্য প্রয়োজনীয় পরবর্তী ধাপ: