৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার: মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোই কি এখন অপরাধ?

admin
প্রকাশিত ২০ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, ২০২৬ ২২:২৪:২৭
চিন্ময় প্রভুর গ্রেপ্তার: মানবিকতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোই কি এখন অপরাধ?

Manual1 Ad Code

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তার এবং তাকে আইনি জটিলতায় ফেলার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও বিশ্লেষণধর্মী মতামত প্রকাশ করেছেন লেখক সুনির্মল সেন। তার মতে, চিন্ময় প্রভুর তথাকথিত “অপরাধ” আসলে মানবতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সাহসী অবস্থান নেওয়া।

Manual3 Ad Code

সুনির্মল সেন তার লেখায় উল্লেখ করেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস যেসব দাবি তুলেছিলেন তা কোনোভাবেই রাষ্ট্রবিরোধী নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। তিনি মূলত চারটি প্রধান বিষয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন: ১. হিন্দু হত্যার সুষ্ঠু বিচার।

Manual1 Ad Code

২. মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা বন্ধ।

৩. হিন্দু নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত নির্যাতনের বিচার।

Manual5 Ad Code

৪. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

রাষ্ট্র ও নাগরিক অধিকার: লেখকের মতে, একটি সভ্য রাষ্ট্রে এই দাবিগুলো তোলা অপরাধ হতে পারে না। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সত্য উচ্চারণ যখন ক্ষমতার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্রযন্ত্র সেই সত্যকেই অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “যে সমাজে ন্যায়ের প্রশ্ন তোলাই অপরাধ হয়, সেখানে আইন ও নৈতিকতার কোনো রক্ষক থাকে না।”

বিবেকের ওপর আঘাত: রাজনৈতিক বাস্তবতার কঠোর সমালোচনা করে তিনি লেখেন, একজন ধর্মগুরু—যিনি অস্ত্রের বদলে কথা বলেছিলেন এবং বিদ্বেষের বদলে নিরাপত্তা চেয়েছিলেন—তাঁকে হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল একজন ব্যক্তিকে ফাঁসানো নয়, বরং একটি জাতির বিবেককে শাস্তি দেওয়ার নামান্তর। একে তিনি ‘মানবতার বিরুদ্ধে এক নীরব সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইতিহাসের শিক্ষা: সুনির্মল সেন তার লেখার সমাপ্তি টেনেছেন আশাবাদ ও হুঁশিয়ারির মধ্য দিয়ে। তিনি মনে করেন, ক্ষমতা সাময়িকভাবে সত্যকে বন্দি করে রাখতে পারলেও চিরদিন তা সম্ভব নয়। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে, ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু সত্য ও ন্যায় কখনো চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় না।

Manual2 Ad Code