
চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর ইস্যুকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে। বহুজাতিক বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক তদন্ত শুরু করেছে চীন।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নির্দিষ্ট ধরনের অ্যানালগ আইসি চিপের বিরুদ্ধে ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এই ধরনের চিপ তৈরি করে টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস ইনকরপোরেটেড ও অ্যানালগ ডিভাইসেস ইনকরপোরেটেড। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিষেধাজ্ঞা ও বৈষম্যমূলক পদক্ষেপের অভিযোগে একটি ‘অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন’ তদন্তও শুরু করেছে বেইজিং।
তদন্ত ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্র ২৩টি চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে। অভিযোগ করা হয়, এসব প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রমে যুক্ত।
এই প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে স্পেনের মাদ্রিদে বসবে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা হবে। আলোচনায় টিকটকের মালিকানা ইস্যু ও অর্থ পাচারবিরোধী পদক্ষেপও আসতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ।
সেমিকন্ডাক্টর খাত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–নির্ভর উন্নত চিপ রপ্তানির ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এনভিডিয়া করপোরেশনের সীমিত ক্ষমতাসম্পন্ন চিপ রপ্তানিতেও নিয়ন্ত্রণ জারি হয়েছে।
চীনের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং তাদের উন্নত কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিল্পকে দমন করার কৌশল।
চীনের ‘অ্যান্টি-ডাম্পিং’ তদন্ত প্রায় এক বছর চলতে পারে, প্রয়োজনে আরও ছয় মাস বাড়ানো যাবে। আর বৈষম্যবিরোধী তদন্তের সময়সীমা সাধারণত তিন মাস।