
চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে। একপর্যায়ে তাদের চোখে চুনের পানি ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার পালইছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার গভীর রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়। খবর পেয়ে আনোয়ার হোসেন স্বজন ও প্রতিবেশীদের নিয়ে গরু খুঁজতে বের হন।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া গ্রামের জামে মসজিদের সামনে দিয়ে দুটি গরু নিয়ে যাওয়ার সময় সোনাই মিয়া (২৫) নামে এক যুবককে স্থানীয় মুসল্লিদের সন্দেহ হয়। পরে তারা তাকে আটক করেন।
সোনাই ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জুরাপানি গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গরু চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন বলেও জানান তিনি।
পরে স্থানীয় লোকজন দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইউরি গ্রামের আবু বক্কর ওরফে বাক্কার (৩৫) এবং পূর্ব ঘিলাতলী গ্রামের নিজাম উদ্দিন (৩০)কে ধরে নিয়ে আসেন।
এরপর আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে গরু দুটি তার বলে শনাক্ত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তিনজনের হাত-পা বেঁধে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকান থেকে চুন এনে পানিতে গুলিয়ে তাদের চোখে ঢেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন লোকের মধ্যে তিনজনকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। তারা মারধর না করার জন্য অনুরোধ করছেন। তাদের একজনকে পানি খাওয়ার জন্য আকুতি জানাতেও শোনা যায়।
খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তিনজনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনজনের চোখের আঘাত গুরুতর। হাসপাতালে চোখের চিকিৎসক না থাকায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।