অপরাধ প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্তে ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশের নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ উঠেছে আব্দুল্লাহ, আলামিন ও কামাল, খায়রুল, জসিম, রিয়াজ (১) হোসেন, রিয়াজ (২), কালাম, আরিফ, লিয়াকত সহ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে দাপটের সাথে চলছে তাদের চাঁদাবাজির মহা উৎসব। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, চিনি, নাসির বিড়ি,কম্বল,জিরা, কিট মাল,ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের মাদক, ইয়াবা, মদ, গাজাসহ বিভিন্ন পন্যে।
তবুও সংশ্লিষ্ট বাহিনী নীরব ভূমিকায়।ভারত থেকে চোরাচালান বাংলাদেশে নিয়ে আসার নিরাপদ স্থান প্রতাবপুর,লামাপুঞ্জি,মোগলি,কাটারির খাল,
চা-বাগান সংলগ্ন রাধানগর বাজারের আশপাশ দিয়ে গাড়ি বুঝাই করে নিয়ে নিরাপদে গোয়ানঘাট দিয়ে,সিলেট শহর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়।
আর এসবের লাইন গোয়াইনঘাট থেকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আব্দুল্লাহ, আল আমিন ও কামাল সহ নাম উল্লেখিত সিন্ডিকেট, চোরাই পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন পন্যে। চোরাকারবারীদের গডফাদার স্থানীয় প্রশাসনের লাইনম্যান আল আমিন ও কামাল বাহিনী,প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা কে অমান্য করে,প্রশাসনের নাকের ডগায় বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চোরাকারবারিদের দিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন আর হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা।
জানা যায় প্রতি রাতে ডিবি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের নামে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা নিয়ে বৈধতা দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দেয় আব্দুল্লাহ, আল আমিন ও কামাল বাহিনী।
তাছাড়া রাত নামলেই গোয়াইনঘাট উপজেলার সীমান্ত দিয়ে খরস্রোতে নদীর কচুরিপনার মত ভেসে আসতে শুরু করে ভারতীয় চোরাই বিভিন্ন পন্য।
স্থানীয়দর অভিযোগ, কামাল গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের এবং আল-আমিন জেলা ডিবি পুলিশের নাম ব্যবহার করে নিজেদের ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের অনুমতি ছাড়া এই রুটে কোনো চোরাই পণ্যবাহী ট্রাক বা ডিআই গাড়ি চলাচল করতে পারে না বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে চোরাচালান অন্য সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়ে জমজমাট আকার ধারণ করেছে।
পাশপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে লাইনম্যান খ্যাত কামাল ও আলামিনের মতো তালিকাভুক্ত চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য।
সিলেটের শীর্ষ চোরাকারবারি আব্দুল্লাহ, আলামিন ও কামাল সিন্ডিকেট সারা দিন ঘুমিয়ে সন্ধ্যার আগেই ইলেকিট্রক টর্চলাইট হাতে নেমে পড়ে মাঠে।
রাতভর চোরাকারাবারিদের লাখ লাখ টাকার ঘুষের লেনদেন হয় স্থানীয় প্রশাসনের লাইনম্যান খ্যাত শীর্ষ চোরাকারবারি আলামিন ও কামালের সাথে।
মোট কথা জাফলং গোয়াইনঘাটের সীমান্ত হচ্ছে আব্দুল্লাহ, আল আমিন ও কামাল,খায়রুল সিন্ডিকেটের চোরাচালানের প্রধান করিডোর।
এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে,তারা জানান,পুলিশের কোনো অফিসিয়াল লাইনম্যান নেই। পুলিশের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে স্থানীয়রা এই লাইনম্যান প্রথা বন্ধে এবং কামাল ও আল আমিনের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত উর্ধ্বতন কতূপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ ব্যাপারে জানতে আল আমিন এর মুঠোফোনে একাধিক কল দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন আমি এসব করেন না ।
এব্যাপারে জানতে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের অফিসিয়াল নাম্বারে কল দেওয়া হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন আমার এলাকায় এইসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রয়েছে, তারপরও আমি খোজ নিয়ে দেখতেছি ওরা কারা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে ।