
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আলোচিত ‘ছাগলকাণ্ডে’ ফেঁসে যাওয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুদকের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেনের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় মতিউরের নামে থাকা মূল্যবান জমি জব্দের নির্দেশ দেন। ক্রোক করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
অবস্থান: রূপগঞ্জ থানার মসুরি গ্রাম মৌজার আনন্দ হাউজিং সোসাইটি।
পরিমাণ: ২৪ কাঠার মোট ৪টি আবাসিক প্লট।
মূল্য: দাপ্তরিক হিসেবে এই জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬৯ টাকা (যদিও বাজারমূল্য আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে)।
দুদক তাদের আবেদনে জানায়, তদন্ত চলাকালে মতিউরের এই নতুন সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে যে, মতিউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসব সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তরের বা বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তদন্ত প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং রাষ্ট্রের সম্পদ যাতে বেহাত না হয়, সেজন্য এই সম্পদগুলো অবরুদ্ধ (Freezed) করা একান্ত প্রয়োজন।
২০২৪ সালের কোরবানির ঈদে ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনাকে কেন্দ্র করে মতিউরের ছেলে ইফাতের বিলাসী জীবনযাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এর পরপরই বেরিয়ে আসে মতিউরের নামে-বেনামে থাকা অঢেল সম্পদের তথ্য।
মোট ক্রোক: এর আগে তিন দফায় মতিউর ও তাঁর পরিবারের ৮টি ফ্ল্যাট এবং ৩৩ একর সম্পত্তি ক্রোক করা হয়েছে।
মামলা: মতিউর রহমান, তাঁর দুই স্ত্রী এবং সন্তানের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা চলমান।
বর্তমান অবস্থা: আর্থিক সংকটে এরই মধ্যে মতিউরের মালিকানাধীন কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।