
ছাতকে মোস্তফা আনোয়ার এনাম হত্যা মামলায়
৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২ জন খালাস
ফকির হাসান, ছাতক থেকে: ছাতকে বহুল আলোচিত হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকায় জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি-কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তিন আসামি-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অন্য ৩ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহা. হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন,ছাতক পৌর সভার নোয়ারাই এলাকার মৃত. নুর মিয়ার ছেলে মো. দবির হোসেন, মৃত আব্দুস সালামের ছেলে মো. সিহাব মিয়া এবং মো. দবির হোসেনের স্ত্রী আছমা আক্তার লাভলী।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আছমা আক্তার লাভলী ছিলেন পলাতক । আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ঘটনার অপর ২ আসামি— ছাতক উপজেলার নোয়ারাই এলাকার বাসিন্দা মৃত. নূর মিয়ার ছেলে মো. কবির মিয়া ওরফে মো. কবির আহমদ এবং সিলেট ফেঞ্চুগঞ্জের ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত সজ্জাদ আলীর ছেলে মো. আবদুর রাজ্জাককে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এ মামলার আরেক আসামি মরহুম রকিব মিয়া-কে ও খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এজাহার ও নথি সূত্রে জানা যায়,ছাতক পৌরসভার নোয়ারাই এলাকায় জায়গা—জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুক্তভোগী হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম ও তার ভাইদের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালের ১৩ মে বিকেলে ইফতারের পূর্বে আসামিরা পূর্বশত্রুতার জেরে লোহার রড,পাইপ ও লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায় হাজী মোস্তফা আনোয়ারের উপর। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় হাজী এনামকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ২০ মে দুপুরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে মারা যান হাজী মোস্তফা আনোয়ার এনাম।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোস্তফা জুবায়ের বাদী হয়ে ছাতক থানায় হত্যা ( মামলা নং— ১৯, তারিখ: ১৬/০৫/২০২১) মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। দীর্ঘ সাক্ষ্য—প্রমাণ ও শুনানির পর আজ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। একজন আসামি পলাতক রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মঈন উদ্দিন আহমেদ সোহেল এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. সালেহ আহমদ, মো. আব্দুল হামিদ এবং মো. আব্দুর গাফফার (২)।