
ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বহিষ্কার পরবর্তীতে ওই শিক্ষককে আবারও বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০ নম্বর কামালবাজার ইউনিয়নের হাজী রাশীদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল হাইকে ঘিরে ২০২২ সালের একটি পুরোনো গুরুতর অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। ওই সময় বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষক আবারও বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২০২২ সালে অভিযোগটি সামনে আসার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং বহিষ্কারের পর কী প্রক্রিয়ায় ওই শিক্ষক আবারও বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট নয়।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের ফল কী ছিল? বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কীভাবে পরিবর্তিত হলো? তাঁকে পুনরায় শিক্ষকতায় ফেরানোর ক্ষেত্রে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, পরিচালনা কমিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের কোনো সিদ্ধান্ত ছিল কি না?
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু পাঠদানের স্থান নয়; শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, আস্থা ও মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রও। তাই কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং তদন্তের ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ২০২২ সালের ওই অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের অবস্থান কী? অভিযোগের তদন্ত, বহিষ্কার-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী সময়ে ওই শিক্ষকের পুনরায় যোগদানের ক্ষেত্রে কী কী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা কি প্রকাশ করা হবে?
স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার প্রকৃত অবস্থা এবং শিক্ষক আব্দুল হাইয়ের পুনরায় বিদ্যালয়ে যোগদানের প্রশাসনিক ভিত্তি স্বচ্ছতার সঙ্গে জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও সামনে আসা প্রয়োজন।