
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৪ এপ্রিল, ২০২৬
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অফিস-আদালতের ব্যস্ততা না থাকলেও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার কমছে না। মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ লাইন সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। অনেক স্টেশনে তেলের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, তেলের পাম্পগুলোতে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড়। মোহাম্মদপুর থেকে ফার্মগেটগামী এক বাইকার জানান, সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের ফিলিং স্টেশনের লাইন বিজয় সরণি পর্যন্ত ঠেকেছে। ছুটির দিনেও এমন চিত্র দেখে সাধারণ চালকদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—চাহিদা হঠাৎ কেন এত বেড়ে গেল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক পাম্প শুক্রবার ও শনিবার নতুন করে বরাদ্দ পায়নি। ফলে সেসব পাম্পে তেল না থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
মাতুয়াইল খান অ্যান্ড চৌধুরী ফিলিং স্টেশন: এখানে গত ৯ দিন ধরে অকটেনের সরবরাহ নেই। তবে ডিজেলের নিয়মিত বরাদ্দ আসলেও গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
মোহাখালী সোহাগ ফিলিং স্টেশন: গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় ছুটির দিনে তারা কোনো তেল পায়নি বলে জানিয়েছেন পাম্পের ব্যবস্থাপক।
তেজগাঁও এলাকা: কামাল ট্রেডিং ও সততা ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত তেল দিলেও প্রতি রাতেই রিজার্ভ শূন্য হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসাররা।
লাইন নিয়ন্ত্রণ এবং তেল বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনার খবর পাওয়া গেছে। তেজগাঁও এলাকায় নারী বাইকারদের জন্য পৃথক লাইন করতে গেলে পুরুষ চালকদের বাধার মুখে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে তেল না থাকা সত্ত্বেও পাম্প কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা ঘটছে।
গত ৩০ মার্চ থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাম্পগুলোতে তদারকির জন্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। পদ্মা অয়েলের সহকারী ব্যবস্থাপক সঞ্জয় কুমার সাহা জানান, মতিঝিল ও হাটখোলা এলাকার পাম্পগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। তবে চালকদের লাইন অমান্য করার প্রবণতা এবং সুযোগ পেলেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
জ্বালানি সংকটের এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের মাঝে উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত বরাদ্দ পাওয়ার পরও কেন দীর্ঘ লাইন শেষ হচ্ছে না এবং কেন তেলের রিজার্ভ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছতা দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিপিসি কর্তৃপক্ষ বলছে, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে চাহিদার অস্বাভাবিক উল্লম্ফন পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
পরামর্শ: প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় বিজয় সরণি বা তেজগাঁও এলাকার পাম্পের দীর্ঘ লাইনের একটি ছবি ব্যবহার করলে সংবাদের গভীরতা বাড়বে। এছাড়া বিপিসি’র পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ ঘোষণা থাকলে তা শেষে যুক্ত করা যেতে পারে।