
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জীবন অনেক সময় ছোটখাটো ভুলের মধ্য দিয়ে বড় কোনো সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়। অ্যান্ডি জনসনের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছিল। সম্প্রতি পিপল ডটকম-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, কীভাবে ছেলের পায়ে ভুল জুতো পরিয়ে দেওয়ার এক অতিসাধারণ ঘটনা একজন বাবার দৃষ্টিশক্তি হারানোর কঠিন বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এল।
৩৫ বছর বয়সী অ্যান্ডি তাঁর ছোট ছেলে ওকলেনকে স্কুলের জন্য তৈরি করছিলেন। এ সময় তিনি ছেলের দুই পায়ে দুটি ভিন্ন জুতো পরিয়ে ফেলেন। বিষয়টি অ্যান্ডির স্ত্রী ড্যানি জনসনের নজরে পড়লে অ্যান্ডি হঠাৎ উপলব্ধি করেন, তাঁর দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে অনেক বেশি ঝাপসা হয়ে গেছে।
অ্যান্ডি শৈশব থেকেই ‘রেটিনাল ডিস্ট্রফি’ নামক একটি জিনগত রোগে ভুগছিলেন। যার ফলে তাঁর দৃষ্টিসীমা সংকীর্ণ বা ‘টানেল ভিশন’ (পার্শ্ববর্তী দৃশ্য দেখতে না পাওয়া) ছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর কেন্দ্রীয় দৃষ্টিশক্তিও দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পর অ্যান্ডির আশঙ্কাই সত্যি হয়। ড্যানি সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল এই চিন্তা যে—অ্যান্ডি কি আমাদের সন্তানদের বড় হওয়ার মুহূর্তগুলো আর কোনোদিন দেখতে পাবে না?”
দৃষ্টিশক্তি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে একসময়ের প্রাণোচ্ছ্বল ও সফল ব্যবসায়ী অ্যান্ডি নিজেকে সমাজ থেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। নিজের ওয়াটার স্পোর্টস ব্যবসা, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া বা রাস্তা পার হওয়ার মতো দৈনন্দিন কাজগুলোও তাঁর জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে। ৯ বছর বয়সী বড় ছেলে ফিনলের ওপরও বাবার এই অসহায়ত্ব মানসিকভাবে গভীর প্রভাব ফেলে।
তবে ভেঙে পড়লেও দমে যাননি এই দম্পতি। ড্যানির নিরলস উৎসাহে অ্যান্ডি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সংগ্রাম শুরু করেন। এখন অ্যান্ডি সাদা ছড়ি ব্যবহার করেন এবং ‘পার্লি’ নামের একটি গাইড কুকুরের সহায়তায় চলাফেরা করেন। ব্যবসার ক্ষেত্রেও তারা কাজ ভাগ করে নিয়েছেন—অ্যান্ডি সামলান ব্যবস্থাপনা আর ড্যানি দেখেন মাঠপর্যায়ের কাজ।
অ্যান্ডি আক্ষেপ করে বলেন, “আগের জীবনের অনেক কিছুই ভীষণ মনে পড়ে। বিশেষ করে গাড়ি চালানো বা ওয়াটার স্পোর্টস শেখানোর সেই স্বাধীনতা। মানুষ বোঝে না, ছোট ছোট কাজের মধ্যেও কতটা স্বাধীনতা লুকিয়ে থাকে।”
বর্তমানে এই দম্পতি ইনস্টাগ্রামে তাদের দৈনন্দিন জীবনের লড়াইয়ের ভিডিও শেয়ার করেন। তাঁদের উদ্দেশ্য—মানুষ যেন দৃষ্টিশক্তি হারানোর বাস্তবতা বুঝতে পারে এবং বর্তমান মুহূর্তের মূল্য দিতে শেখে। ড্যানির মতে, এই কঠিন অভিজ্ঞতা তাঁদের জীবনের প্রকৃত অর্থ বুঝতে শিখিয়েছে। তারা এখন প্রতিটি মুহূর্ত পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার সাথে উপভোগ করেন।