
জকিগঞ্জ সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির জনসচেতনতামূলক সভা
নারী ও শিশু পাচার, মাদক ও চোরাচালান রোধে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সীমান্তের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে সিলেটের জকিগঞ্জে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত জকিগঞ্জ উপজেলার আমলশীদ বাজারে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) এ সভার আয়োজন করে।
সভায় জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক এ কে এম নুরুজ্জামান তরফদার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন স্থানীয় বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনা সভায় সীমান্ত অতিক্রম করে অবৈধ যাতায়াত, বিএসএফ কর্তৃক পুশইন প্রতিরোধ, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অপদখলীয় ভূমি সংক্রান্ত পরিস্থিতি, শূন্য লাইনে মাছ ধরা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা, নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান এবং মাদকদ্রব্য পাচার বন্ধসহ সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুটেন্ট সহকারী পরিচালক এ কে এম নুরুজ্জামান তরফদার সীমান্তবর্তী জনগণকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, নারী ও শিশু পাচার, মাদক ও পণ্য চোরাচালান কিংবা অবৈধ অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বিজিবি অথবা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে বিজিবিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় বক্তারা সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
পরিশেষে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি এবং দেশপ্রেমিক জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।