
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের দুর্গম জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়ার (নায়েব সুবেদার) প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় র্যাব-৭ সদর দপ্তরে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যা উপস্থিত কাউকেই স্থির থাকতে দেয়নি।
বাবার কফিনের সামনে ছোট্ট মুনতাহার আর্তনাদ: জানাজায় অংশ নিয়েছিল মোতালেবের তিন সন্তান ও স্ত্রী। সবার ছোট মেয়ে ইসরাত জাহান মুনতাহার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বাবার কফিনের সামনে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সে কাঁদছিল আর বলছিল, “আমার বাবা মাটির নিচে কেমনে থাকবে? আমার বাবার কী দোষ ছিল, কেন তাঁকে এভাবে মারা হলো?” অবুঝ শিশুর এই আর্তনাদ নাড়া দিয়েছে পুরো দেশবাসীকে।
যেভাবে হামলাটি ঘটেছিল: সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে চিহ্নিত এক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে ফেরার পথে র্যাবের ওপর ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। মাইকে ঘোষণা দিয়ে শত শত লোক র্যাব সদস্যদের ঘিরে ফেলে গুলিবর্ষণ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে গুরুতর আহত মোতালেবকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এক নজরে বীর সেনানী মোতালেব হোসেন:
পরিচয়: কুমিল্লা সদর জেলার অলিপুর গ্রামের আব্দুল খালেক ভূঁইয়ার ছোট ছেলে।
কর্মজীবন: ১৯৯৫ সালে বিডিআরে (বর্তমানে বিজিবি) যোগ দেন। ২৮ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে সর্বশেষ টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২-এ কর্মরত ছিলেন। মাত্র দেড় বছর আগে (২৬ এপ্রিল ২০২৪) তিনি প্রেষণে র্যাবে যোগ দেন।
পরিবার: স্ত্রী সামসুন্নাহার, ছেলে মেহেদী হাসান এবং দুই মেয়ে শামিমা ও ইসরাতকে রেখে গেছেন তিনি।
অপূর্ণ রয়ে গেল আজীবনের স্বপ্ন: মোতালেবের স্বজনরা জানান, ২৮ বছরের সঞ্চয় দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করছিলেন তিনি। অবসরে গিয়ে সেই বাড়িতে থাকার খুব শখ ছিল তাঁর। দুই দিন আগেও বাড়ি গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরটি দেখে এসেছিলেন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বুলেটে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
সন্ত্রাসীদের দমনে উত্তাল নেট দুনিয়া: ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। নেটিজেনরা মোতালেব হোসেনকে ‘বীর শহীদ’ আখ্যা দিয়ে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে বড় ধরনের অভিযানের দাবি তুলেছেন। তারা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।