নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের উন্নয়ন এবং বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ডের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে একটি দীর্ঘ নিবন্ধ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষক সুনির্মল সেন। তার মতে, সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান সমর্থন এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
জনগণের মোহভঙ্গ ও বর্তমান বাস্তবতা
সুনির্মল সেন তার লেখায় উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা যখন ষড়যন্ত্রের কথা বলতেন, তখন অনেকে বিরক্ত হতেন। কিন্তু তার ক্ষমতাচ্যুতির ১৭-১৮ মাস পর সাধারণ রিকশা-অটোচালক ও আমজনতা এখন দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলছেন, “শেখ হাসিনাই ঠিক ছিলেন।” তিনি দাবি করেন, দ্রব্যমূল্য ও শাসনব্যবস্থার সংকটে পড়ে সাধারণ মানুষ এখন বিগত সরকারের সময়কালকে ‘সুশাসন’ হিসেবে দেখছে।
মেগা প্রকল্প ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র
নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করায় বিদেশি শক্তি এবং দেশের ভেতরের একটি পক্ষের ‘ইগো’তে লেগেছিল। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা আন্তর্জাতিক প্রভাবশালী দেশগুলোর মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে রুখতেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কড়া সমালোচনা করে সুনির্মল সেন বলেন, এক সময় আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একতরফা নির্বাচনের অভিযোগ তোলা হলেও এখন একটি দলকে নিষিদ্ধ করে ‘ইনক্লুসিভ নির্বাচন’ বা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের সংজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আঁতাতের নির্বাচন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “হাজার কোটি টাকা খরচ করে এমন একটি নির্বাচন করা হবে যা আগেই ফিক্সিং করা থাকবে।”
‘জুলাই চেতনা’ ও নতুন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সমালোচনা
আওয়ামী লীগ আর কখনো ফিরতে পারবে না—এমন তত্ত্ব দেওয়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে দলের পেছনে জনসমর্থন থাকে, তাদের ফিরে আসা কেউ ঠেকাতে পারে না। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাংবাদিকদের কথা বলার স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে এবং তারা এখন আওয়ামী লীগ আমলের স্বাধীনতার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করছেন।
বিচার ও পরিণতির হুঁশিয়ারি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণকে ‘অবৈধ’ দাবি করে তিনি বলেন, আজ হোক কাল হোক এই শাসনের বিচার হবেই। কথিত গণভোট বা ফলাফল নির্ধারিত নির্বাচনের কোনো জনমূল্য নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।