নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১২ জানুয়ারি, ২০২৬
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্টাফ বাসে করে ক্যাম্পাসে আসার সময় এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিন শিক্ষার্থীকে হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকালে চিটাগাং রোড থেকে ছেড়ে আসা ১৩ নম্বর স্টাফ বাসে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন ছাত্রী ও একজন ছাত্র। এ ঘটনায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযুক্ত খন্দকার হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার বিবরণ
লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, সকালে নির্ধারিত স্টুডেন্ট বাস মিস করায় তারা বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাফ বাসে ওঠেন। বাসে ওঠার পর থেকেই উপপরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমান তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) কেড়ে নেন এবং দীর্ঘক্ষণ নিজের কাছে রেখে দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগে আরও জানান, বাস থেকে নামার সময় তাদের অপমান করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “বাস থেকে নেমে যাও, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাও। এটা স্টাফদের জন্য, স্টুডেন্টদের জন্য না।” এই ঘটনায় ছাত্রীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। যার ফলে তারা পরবর্তী ক্লাসেও মনোযোগ দিতে পারেননি বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
বাসে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার হালিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাটি ঘটেছে সত্য। শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বাস মিস করলে স্টাফ বাসে যাতায়াত করে। তবে কেন আজ এমন আচরণ করা হলো, তা আমি বলতে পারছি না।”
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনকে আমাদের অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, তবে তার যথাযথ শাস্তি হওয়া উচিত। আমার ক্ষেত্রেও যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তবে শাস্তি প্রযোজ্য হবে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত খন্দকার হাবিবুর রহমান অভিযোগের কিছু অংশ অস্বীকার করে বলেন, “তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না তা নিশ্চিত হতে আমি আইডি কার্ড পরীক্ষা করেছিলাম। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যেতে বলার বিষয়টি সঠিক নয়।”
তদন্তের আশ্বাস
পুরো বিষয়টি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম গণমাধ্যমকে জানান, অভিযোগের বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। একটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।