১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

জাজিরায় যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান: ৪৫টি ককটেলসহ আটক ৪

admin
প্রকাশিত ১২ জানুয়ারি, সোমবার, ২০২৬ ১৮:৪৪:৫২
জাজিরায় যৌথ বাহিনীর বড় অভিযান: ৪৫টি ককটেলসহ আটক ৪

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর ১২ জানুয়ারি, ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুরে ঘরের মধ্যে বিস্ফোরণে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনার পর এলাকাটিতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে ৪৫টি ককটেল, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন নারীসহ চারজনকে আটক করা হয়।

অভিযানের বিস্তারিত

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দি গ্রামে এ অভিযান চলে। অভিযানে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে রাখা ককটেলগুলো শনাক্ত করা হয়।

Manual6 Ad Code

পুলিশ জানায়, মজিদ ব্যাপারী, নুরুজ্জামান ব্যাপারী ও শামছুল ব্যাপারীর বাঁশঝাড় এবং বসতঘরের আশপাশ থেকে এই ককটেলগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো বর্তমানে নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

Manual3 Ad Code

আটক ও মামলার প্রেক্ষাপট

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃতরা হলেন— সুরুজ মিয়া (৫২), শাহনাজ বেলী (৪৫), রাশিদা আক্তার (৪০) ও গুল বাহার (৩৫)।

উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি ভোরে বিলাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারীর চাচাতো ভাই সাগর ব্যাপারীর ঘরে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় সোহান ব্যাপারী ও নবীন সরদার নামে দুই যুবক নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এবং এ পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নেপথ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিলাসপুর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী এবং পরাজিত প্রার্থী আব্দুল জলিল মাতবরের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল ও নভেম্বরেও এখানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে জলিল মাতবর কারাগারে এবং চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী জামিনে এলাকাছাড়া থাকলেও, তাদের অনুসারী তাইজুল ইসলাম ছৈয়াল ও নাসির ব্যাপারীর পক্ষদ্বয় পুনরায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

Manual3 Ad Code

প্রশাসনের বক্তব্য

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, “অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, ডিবি ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। ককটেল তৈরির সরঞ্জামগুলো কোথা থেকে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথ বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

Manual8 Ad Code