ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে বলেছেন, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে ‘কাজ শেষ করতেই হবে’। তবে তাঁর বক্তব্যের সময় বহু দেশের প্রতিনিধি সভাকক্ষ ছেড়ে বের হয়ে যান, কেউ কেউ স্লোগানও দেন। মার্কিন প্রতিনিধিরা অবশ্য তাঁদের আসনে থেকে কিছু অংশে করতালি দেন।
নেতানিয়াহু তাঁর বক্তব্যে মানচিত্র, পোস্টার ও কিউআর কোড ব্যবহার করেন এবং একাধিকবার সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
-
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
-
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে।
-
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
-
জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত দক্ষিণ আফ্রিকার আনা গণহত্যার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।
গাজার পরিস্থিতি
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের অভিযানে ৬৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত। খাদ্যসংকটের কারণে অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফিলিস্তিনি অবস্থান
জাতিসংঘে এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তিনি বিশ্বকে দখলদারি বন্ধ করা ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান।
বর্তমানে বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনও স্বীকৃতি দেয়নি, যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিমতীর দখল করে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব মেনে নেননি। এদিকে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য পশ্চিমতীরে নতুন বসতি স্থাপনের দাবি তুলেছেন, যা সমালোচকদের মতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।