ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সাবেক দেশসেরা অ্যাথলেট ও দক্ষ সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমো পরলোকগমন করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিমো দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মরদেহ ঢাকা থেকে দিনাজপুরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে বাবার কবরের পাশেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদান
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে অন্যতম সফল মুখ ছিলেন মিমো। বিশেষ করে হাইজাম্পে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। অ্যাথলেটিকসে অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ লাভ করেন।
বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি নিজেকে নিবেদিত করেন দক্ষ ক্রীড়াবিদ তৈরির কাজে।
-
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ: কোচ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
-
বিকেএসপি: উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দিনাজপুর বিকেএসপি গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অনবদ্য ভূমিকা ছিল।
-
ফেডারেশন: অ্যাথলেটিকস ও আর্চারি ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং অ্যাথলেটিকস জাজ হিসেবেও তিনি দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন।
ব্যক্তিগত পরিচয় ও শোক
শামীমা সাত্তার মিমো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরে পেশাগত জীবনে তিনি সবসময় নিজের মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়েই পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে বিকেএসপি, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশন এবং বাফুফেসহ দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে।