
টোকিও | ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম জাতীয় নির্বাচনের ডাক দিয়েছেন। ব্যয় বৃদ্ধি, করছাড় এবং চীনের ক্রমবর্ধমান হুমকির মুখে নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের পক্ষে জনসমর্থন আদায়ই তাঁর এই আকস্মিক ঘোষণার মূল লক্ষ্য। আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জাপানের সংসদ বা ডায়েটের নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
গত বছরের অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তাকাইচির প্রথম বড় কোনো অগ্নিপরীক্ষা। বর্তমান সংসদের ৪৬৫টি আসনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে তাকাইচি বলেন,
"এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাজি রাখছি। জনগণ সরাসরি বিচার করুক—তারা আমাকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায় কি না।"
জাপানের ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে তাকাইচি একটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, জাপানে খাদ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান ৮ শতাংশ ভোগকর (Consumption Tax) আগামী দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হবে। * উদ্দেশ্য: পরিবারের ব্যয় ক্ষমতা বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
অর্থনৈতিক প্রভাব: সরকারি হিসাব মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৩২ বিলিয়ন ডলার) রাজস্ব ঘাটতি হতে পারে।
বাজারের প্রতিক্রিয়া: এই ঘোষণায় আজ জাপানি বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা দেখা গেছে। ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার ২.২৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
তাকাইচি তাঁর নতুন নিরাপত্তা কৌশলের আওতায় জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। চীনের সামরিক মহড়া ও সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত জটিল। তাই দেশের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রতিরক্ষা বাজেট দ্বিগুণ করা অপরিহার্য।
নির্বাচনের ময়দানে এবার এক নতুন সমীকরণ দেখা যাচ্ছে:
ক্ষমতাসীন জোট: তাকাইচির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এবং ইশিন পার্টির জোটে বর্তমানে ২৩৩টি আসন রয়েছে।
বিরোধী জোট: তাকাইচি ক্ষমতা নেওয়ার পর দীর্ঘ ২৬ বছরের জোট ভেঙে এলডিপি থেকে বেরিয়ে আসা কোমেইতো (Komeito) এখন প্রধান বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে মিলে 'সেন্ট্রিস্ট রিফর্ম অ্যালায়েন্স' গঠন করেছে। এই নতুন জোটের হাতে বর্তমানে ১৭২টি আসন রয়েছে।
কান্দা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক জেফ্রি হলের মতে, বর্তমান জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নিজের অবস্থান শক্ত করার জন্য এটিই তাকাইচির সেরা সময়। তবে বিরোধী দলগুলো একজোট হওয়ায় এবং কোমেইতো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় নির্বাচনী লড়াই হবে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি।