
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘অবশ্যম্ভাবী বিজয়’ দেখে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল (জামায়াতে ইসলামী) পরিকল্পিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জান্নাতের টিকিট ও অবৈধ অর্থের প্রলোভন মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ দলের নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি সংগ্রহ করছে। তিনি বলেন, “বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ প্রেরণ কিংবা ‘জান্নাতের টিকিটের’ প্রলোভনকে ধর্মপ্রাণ দেশবাসী প্রত্যাখ্যান করেছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ বোরকা ও নিকাব তৈরির খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা রহস্যজনক।”
প্রশাসনের ওপর আস্থার আহ্বান প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে রাজনৈতিক দলের যোগসূত্র রয়েছে বলে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা নির্বাচন কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের পেশাদারত্বের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে চাই। এই পরিকল্পিত দূরত্ব সৃষ্টির অপচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দাজনক।”
নারীর ক্ষমতায়ন বনাম নারীবিদ্বেষ নারীর অধিকার নিয়ে বিএনপি ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থানের তুলনা করে মাহদী আমিন বলেন:
বিএনপির অবস্থান: বেগম খালেদা জিয়াকে নারী ক্ষমতায়নের ‘রোল মডেল’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি নারী মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, গার্মেন্টস শিল্পে কর্মসংস্থান এবং অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপিই সবচেয়ে বেশি নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলের সমালোচনা: অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী দলটি (জামায়াত) একজন নারী প্রার্থীকেও মনোনয়ন দেয়নি। তারা নারীর অধিকার সংকুচিত করা এবং কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনার প্রস্তাব দিচ্ছে, যা নারীবিদ্বেষী আচরণের বহিঃপ্রকাশ।
দ্বিচারিতা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত আচরণের অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করে বলেন:
“যে দলটি স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ছিল, এখন তাদের প্রধান নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান দাবি করছেন। তাদের ইশতেহারে ভারতীয় ছবির ব্যবহার এবং রাস্তাঘাটে ভারতবিরোধী অবস্থান—এই দ্বিচারিতা ব্যাখ্যাতীত।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একজন অভিনেতাকে প্রতারণার মাধ্যমে জামায়াতের নির্বাচনী বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। এছাড়া ওই দলের প্রধানের সম্বোধনে ‘তুই-তোকারি’ ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি একে পারিবারিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।