
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
নির্বাচনী মাঠে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। ভোটারদের এনআইডি সংগ্রহ, জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টার মতো অভিযোগ এনেছে দলটি।
আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দলের মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে মাহদী আমিন বলেন, “ভোট চাইতে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে। তারা জান্নাতের প্রলোভন দেখাচ্ছে, কোরআন শরিফে শপথ করাচ্ছে, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছে। যারা টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে, তাদের মুখে দুর্নীতির গল্প মানায় না।”
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, নির্বাচনী প্রচারণার আড়ালে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করা হচ্ছে। মাহদী আমিন স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১০ সালের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন অনুযায়ী অন্যের এনআইডি বহন বা হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিগত আওয়ামী আমলের "দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন" তকমাটি নতুন করে প্রচার করায় জামায়াতের সমালোচনা করে বিএনপি। মাহদী আমিন বলেন, “২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের অংশ ছিল উক্ত দলটি। তখন তাদের দুই জন মন্ত্রী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য ছিলেন। সরকারে থাকাকালীন তারা দুর্নীতির অভিযোগ তোলেনি, অথচ এখন নির্বাচনী মাঠে তারা ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এটি স্রেফ রাজনৈতিক দ্বিচারিতা।”
তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলের দুর্নীতির কারণেই বাংলাদেশের স্কোর নিচে ছিল, যা বিএনপির সুশাসনের ফলে পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে উন্নত হয়েছে।
সিলেটে জনৈক প্রার্থীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, “নির্বাচিত হলে পুলিশকে কারও বাড়িতে যেতে হলে প্রার্থীর অনুমতি নিতে হবে—এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।” এছাড়াও বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সিটি করপোরেশনের মতো পূর্ব-অনুমোদিত প্রকল্পগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি হিসেবে প্রচার করে জামায়াত জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
নওগাঁয় বিএনপির পক্ষে প্রচার চালানোয় একজন মুয়াজ্জিনকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, এটি নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের জঘন্য দৃষ্টান্ত। তিনি অবিলম্বে ওই মুয়াজ্জিনের পুনর্বহাল দাবি করেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘন: ভোটারদের উপহার ও অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি।
তথ্য সংগ্রহ: অবৈধভাবে এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ।
ধর্মীয় কার্ড: জান্নাতের প্রলোভন ও পবিত্র কোরআনের দোহাই দিয়ে ভোট আদায়।
প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ: পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে অসাংবিধানিক হুমকি।