অর্থনৈতিক প্রতিবেদক | ১২ মার্চ, ২০২৬
দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের শক্তিশালী অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০.৯৪ শতাংশ এবং এ খাতে দেশের ৪৪.৬৮ শতাংশ মানুষ নিয়োজিত রয়েছেন।
ফল ও সবজি উৎপাদনে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি
বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে অধিকাংশ ফল ও সবজির উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফলের উৎপাদন চিত্র:
-
আনারস: ২ লাখ ৮ হাজার টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার টনে।
-
আম: ১৮ লাখ ৭১ হাজার টন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার টন।
-
ড্রাগন ফল: উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ১২,৫২২ টন থেকে ২২,৪৫৮ টনে উন্নীত হয়েছে।
-
এছাড়াও কাঁঠাল (১১.১২ লাখ টন), পেয়ারা (২.৭৮ লাখ টন) এবং লেবু জাতীয় ফলের উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবজির উৎপাদন চিত্র:
-
গ্রীষ্মকালীন বেগুন: ২.৫৮ লাখ টন থেকে বেড়ে হয়েছে ৩.২৬ লাখ টন।
-
শসা: ১.১৬ লাখ টন থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৫২ লাখ টনে।
-
পুঁইশাক: ১.২২ লাখ টন থেকে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ২.১৭ লাখ টনে পৌঁছেছে।
-
করলা, চিচিঙ্গা, পটল এবং ঢ্যাঁড়সসহ প্রায় সব ধরনের গ্রীষ্মকালীন সবজির উৎপাদনই ঊর্ধ্বমুখী।
উৎপাদন কমেছে যেসব খাতে
সবজি ও ফলে সাফল্য এলেও কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদি জমি কমেছে:
-
গ্রীষ্মকালীন ভুট্টা: আবাদি জমি ও উৎপাদন উভয়ই কমেছে। উৎপাদন ৬.৩২ লাখ টন থেকে কমে ৫.৬৯ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।
-
খেজুর: উৎপাদন ৩৭,৮৬৪ টন থেকে সামান্য কমে ৩৬,৯৯৩ টনে নেমেছে।
কৃষি শ্রমিকের মজুরি পরিস্থিতি
প্রতিবেদনে কৃষি শ্রমিকের মজুরির একটি তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে (একবেলা খাবারসহ):
-
পুরুষ শ্রমিক: জুলাই মাসে মজুরি ছিল ৬৭৭ টাকা, যা সেপ্টেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৪ টাকায়।
-
নারী শ্রমিক: জুলাইয়ে ৪১৬ টাকা থেকে সামান্য কমে সেপ্টেম্বরে হয়েছে ৪১৩ টাকা।
বিশেষজ্ঞ অভিমত ও নীতিনির্ধারণ
বিবিএস-এর পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ওয়াহিদুল ইসলাম জানান, এই ত্রৈমাসিক তথ্য দ্রুত জিডিপি হিসাব তৈরিতে সহায়ক হবে। কৃষি অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও বাজারদরের ওঠানামা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
কৃষি উদ্যোক্তাদের মতে, ডাল ও তেলবীজ উৎপাদনে প্রণোদনা বাড়ানো এবং সংরক্ষণ সুবিধা জোরদার করা গেলে খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুসংহত হবে।