
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য কেবল বাহ্যিক সাফল্য নয়, বরং আত্মশুদ্ধি—অর্থাৎ নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা। ইসলামের দৃষ্টিতে ধন, পদবি বা সামাজিক মর্যাদা যতই থাকুক না কেন, যদি মানুষের হৃদয় খারাপ হয়, তবে সে কখনো প্রকৃত সাফল্য অর্জন করতে পারে না।
কোরআন ও হাদিসে বারবার নিজের অন্তর পরিশুদ্ধ রাখার নির্দেশ এসেছে। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয়ই সে-ই সফল, যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে; আর সে-ই ব্যর্থ, যে একে কলুষিত করেছে।” (সুরা শামস: ৯–১০)
আত্মশুদ্ধি বা তাজকিয়া মানে হলো নিজের মন ও হৃদয়কে পাপ, অহংকার, রাগ এবং মন্দ চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা। এর মাধ্যমে একজন মানুষ ধৈর্য, বিনয়, সততা ও আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারে।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে—পরিশুদ্ধ অন্তরধারী মানুষই প্রকৃত সফল। বাহ্যিক জৌলুস নয়, বরং অন্তরের সততা ও নম্রতাই মানুষের মর্যাদা নির্ধারণ করে।
১️⃣ তওবা ও ইস্তিগফার:
আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপ হলো নিজের ভুল স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। আল্লাহ বলেন,
“হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা করো—যাতে তোমরা সফল হও।” (সুরা নুর: ৩১)
২️⃣ আল্লাহর স্মরণ ও জিকির:
“নিশ্চয়ই আল্লাহর স্মরণে অন্তর প্রশান্তি পায়।” (সুরা রাদ: ২৮)
জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া মানুষের হৃদয়কে প্রশান্ত রাখে এবং পাপ চিন্তা থেকে দূরে রাখে।
৩️⃣ তাকওয়া ও সৎকর্ম:
“যে ব্যক্তি তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জন্য পথ খুলে দেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন, যা সে কল্পনাও করে না।” (সুরা তালাক: ২–৩)
তাকওয়া অহংকার, লোভ ও রাগ কমিয়ে মানুষকে আত্মনিয়ন্ত্রণে রাখে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ছিল আত্মশুদ্ধির পরিপূর্ণ প্রতিফলন। তাঁর চরিত্রে ছিল দয়া, ক্ষমাশীলতা, বিনয় ও আত্মসংযমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কোরআনে বলা হয়েছে,
“তিনি তোমাদের মাঝে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তোমাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।” (সুরা বাকারা: ১৫১)
নিয়ত ঠিক রাখা: “সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।” (সহিহ বুখারি: ১)
রাগ সংযম: “শক্তিমান সে নয়, যে কুস্তিতে জয়ী হয়; বরং শক্তিমান সে, যে রাগের সময় নিজের মন নিয়ন্ত্রণ করে।” (সহিহ বুখারি: ৬১১৪)
হৃদয়ের পবিত্রতা: “দেহে একটি অঙ্গ আছে, যদি তা ভালো থাকে, তবে গোটা দেহ ভালো থাকে; সেটি হলো হৃদয়।” (সহিহ বুখারি: ৫২)
অহংকার ও হিংসা থেকে বিরত থাকা: “যার অন্তরে সরিষার দানার সমান অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহিহ মুসলিম: ৯১)
নিয়মিত নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকিরে অভ্যস্ত থাকা—এসবই আত্মশুদ্ধির প্রধান মাধ্যম।
অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা, প্রতিদিন নিজেকে মূল্যায়ন করা এবং ভালো মানুষের সান্নিধ্যে থাকা অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে।
আত্মশুদ্ধি অর্জনই মানুষের জীবনের প্রকৃত সাফল্য। হৃদয় যদি অশুদ্ধ থাকে, কোনো জ্ঞান, ধন বা পদবি প্রকৃত কল্যাণ দিতে পারে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“সেদিন কোনো ধন-সম্পদ বা সন্তান উপকারে আসবে না; কেবল সেই ব্যক্তি সফল হবে—যার হৃদয় বিশুদ্ধ।” (সুরা শুআরা: ৮৮–৮৯)