
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে দায়মুক্তির (ইনডেমনিটি) আগে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সাবেক সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি জানান। সম্মেলনে আগামী নির্বাচিত সরকারের জন্য ২৫ দফা সম্বলিত একটি ‘গণতান্ত্রিক অধিকারের ইশতেহার’ পেশ করা হয়।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, "পাইকারিভাবে ইনডেমনিটি দিলে হবে না। প্রতিটি ঘটনার সুনির্দিষ্ট তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। যাতে বোঝা যায়, কোনটি গণ-অভ্যুত্থানের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ ছিল আর কোনটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধমূলক তৎপরতার ফল।" তিনি মনে করেন, ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তির সংস্কৃতি বিচারহীনতাকে উৎসাহিত করতে পারে।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমান নির্বাচনী বিধিমালা অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। তিনি বলেন:
বর্তমান ব্যবস্থায় সম্পদশালী এবং ক্ষমতাবানরা ছাড়া সাধারণ মানুষের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অসম্ভব।
জামানতের অর্থ কমানোর পরিবর্তে বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ নাগরিকের অংশগ্রহণে বাধা।
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে টাকা না থাকলে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না—এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের প্রতি কমিটির পক্ষ থেকে ২৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো: ১. জুলাই গণহত্যার বিচার: আগামী নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় আসার তিন বছরের মধ্যে শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যার জন্য দায়ী সকল নেতা-কর্মী, আমলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ২. পালিয়ে যাওয়ায় সহায়তাকারীদের তদন্ত: আওয়ামী লীগের ছয় শতাধিক নেতা-কর্মীর ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বচ্ছ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ৩. জ্বালানি নিরাপত্তা: জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এলপিজি ও গ্যাসের বর্তমান সংকট নিরসনে কিছু গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার পাঠ করেন গবেষক মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, চলচ্চিত্র নির্মাতা আকরাম খান ও সুষ্মিতা পৃথা। বক্তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।