
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
মৌলভীবাজার জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছেন কয়েক লাখ কৃষক। ডিজেলের অভাবে একদিকে যেমন হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে আউশ ধানের আবাদ শুরু করা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও ট্রাক্টর ও সেচযন্ত্র চালাতে না পারায় কৃষকদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিক কৃষিতে জমি ভাঙা, হালচাষ, ধান কাটা ও মাড়াই—সবই এখন যন্ত্রনির্ভর। আর এসব যন্ত্রের প্রাণ হলো ডিজেল। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রামীণ দোকানগুলোতে তেল বিক্রি প্রায় বন্ধ। শহরের পাম্পগুলোতে কিছু তেল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।
বর্তমানে হাওর এলাকায় বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম। হারভেস্টার মেশিনের মালিক জুবের আহমদ জানান, একটি হারভেস্টার চালাতে দিনে অন্তত ৮০ থেকে ১০০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তেল সংকটে তিনি তার মেশিন হাওরে নামাতে পারছেন না। কাউয়াদীঘি হাওরের কৃষক আলমাস মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, "ধান পেকে গেছে, কিন্তু শ্রমিক পাচ্ছি না। আবার তেলের অভাবে মেশিনও আসছে না। ধান কেটে ঘরে তুলব কীভাবে, তা নিয়ে মহাবিপদে আছি।"
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমে ৩৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সরকার ৫৪ হাজার কৃষককে বিনামূল্যে সার ও বীজ দিলেও মাঠের চিত্র ভিন্ন। চৈত্র-বৈশাখের বৃষ্টিতে জমি চাষের উপযুক্ত সময় চললেও ট্রাক্টর মালিকরা তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছেন চাষিদের। কৃষক মিজান আহমেদ জানান, সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে না পারলে এবার আউশের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাবে।
বোরো ধান: ৬২,৪০০ হেক্টর।
আউশ ধান: ৩৮,৫০০ হেক্টর।
প্রণোদনা প্রাপক: ৫৪,০০০ কৃষক।
জ্বালানি সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, "বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা পেট্রলপাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলছি যাতে কৃষি কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহ করা হয়।"
তবে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের দাবি, দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বোরো ও আউশ—উভয় মৌসুমেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে জেলার অর্থনীতি।