২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৬ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ট্রাম্পের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি বনাম ইরানের অস্বীকার: প্রচারযুদ্ধ নাকি পর্দার আড়ালের সমঝোতা?

admin
প্রকাশিত ২৫ মার্চ, বুধবার, ২০২৬ ১২:৩৬:০০
ট্রাম্পের ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি বনাম ইরানের অস্বীকার: প্রচারযুদ্ধ নাকি পর্দার আড়ালের সমঝোতা?

Manual6 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন-তেহরান বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

Manual4 Ad Code

প্রায় এক মাস আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তা নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। ট্রাম্প দাবি করছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে এবং বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তেহরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘স্রেফ গুজব’ ও ‘বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন।

Manual4 Ad Code

ট্রাম্পের দাবি ও শেয়ারবাজারের সমীকরণ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, এক অজ্ঞাতনামা ‘শীর্ষ’ ইরানি কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এই বার্তার টাইমিং নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন সময়ে এল যখন মার্কিন শেয়ারবাজার সপ্তাহের লেনদেন শুরু করছিল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত দুই সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে যাওয়ায় মার্কিন অর্থনীতি চাপে পড়েছে। বাজারকে শান্ত করতে এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতেই ট্রাম্প আলোচনার এই ‘ন্যারেটিভ’ সামনে এনেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের কঠোর প্রতিক্রিয়া

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, যাকে অনেকেই ট্রাম্পের উল্লিখিত সেই ‘শীর্ষ কর্মকর্তা’ মনে করছেন, তিনি সামাজিক মাধ্যমে সাফ জানিয়েছেন:

Manual5 Ad Code

“যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি একটি ভুয়া খবর, যা কেবল আর্থিক ও তেলের বাজারকে প্রভাবিত করতে এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সংকট আড়াল করতে ছড়ানো হচ্ছে।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় নীতি এখন এমন যে, তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ অনুভব করুক, যাতে ভবিষ্যতে তেহরানের ওপর হামলার আগে ওয়াশিংটন দশবার ভাবে।

ট্রাম্পের পিছুটান ও অর্থনৈতিক চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প আগে এই যুদ্ধকে ‘স্বল্পমেয়াদী অভিযান’ মনে করলেও এখন এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করছেন। সংঘাতের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যা আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৯ সালের পর এই প্রথম কিছু ইরানি তেলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। একে ইরানের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন অনেকে, কারণ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে তারা বিশ্ব অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে।

Manual8 Ad Code

যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও দুই পক্ষের লাভ-ক্ষতি

বর্তমানে দুই পক্ষই এক জটিল অবস্থানে রয়েছে:

  • যুক্তরাষ্ট্রের সংকট: যুদ্ধ চালিয়ে গেলে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে, আর থামিয়ে দিলে ‘অসম্পূর্ণ মিশন’-এর জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হবে।

  • ইরানের কৌশল: ইরান বর্তমানে সংযম দেখানোর চেয়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (ইন্টারসেপ্টর) নিঃশেষ করে দেওয়ার কৌশলে বিশ্বাসী। তবে যুদ্ধে ইতিমধ্যে দেশটিতে ১,৫০০ মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপসংহার: ইরানের মধ্যপন্থীরা হয়তো কিছুটা ছাড়ের বিনিময়ে (যেমন হামলার স্থায়ী সমাপ্তি বা হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব) আলোচনায় আগ্রহী হতে পারেন। কিন্তু কট্টরপন্থীরা মনে করছেন, এখনই থামার সময় নয়। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের আলোচনার দাবি সত্য নাকি কেবলই একটি ‘পলিটিক্যাল স্টান্ট’, তা দেখার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।