আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে উপনীত হতে ডোনাল্ড ট্রাম্প কিয়েভকে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত ‘অন্যায়’। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের মধ্যস্থতা কৌশলের সমালোচনা করেন।
জেনেভা আলোচনা: স্থবিরতা ও উত্তেজনা
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় গতকাল থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী শান্তি আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার পর ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির’ দাবি করলেও ইউক্রেন ও রাশিয়ার সূত্রগুলো একে ‘অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে বর্ণনা করেছে।
মস্কোর আলোচকরা আবারও দনবাসসহ পূর্বাঞ্চলের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। জেলেনস্কি প্রশ্ন তুলেছেন, মস্কো আদতে শান্তি চায় কি না। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দনবাসের নিয়ন্ত্রণ একতরফাভাবে রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়ার মতো কোনো চুক্তি ইউক্রেনের জনগণ মেনে নেবে না।
ট্রাম্পের ওপর জেলেনস্কির ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার জন্য আগামী জুন মাসকে সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন। তবে জেলেনস্কির মতে, ট্রাম্প রাশিয়ার পরিবর্তে কেবল ইউক্রেনকেই ছাড় দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। জেলেনস্কি বলেন, “শান্তির জন্য বারবার ইউক্রেনকে ছাড় দিতে বলা হচ্ছে, রাশিয়াকে নয়। এটি ন্যায্য নয়।”
তিনি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয়দের কাছে ‘ব্যর্থ গল্প’ মনে হবে এমন কোনো পরিকল্পনা যেন তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়।
রণক্ষেত্রের চিত্র ও ভূখণ্ড পুনর্দখল
কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পাওয়ার দাবি করেছে ইউক্রেন। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর তথ্যমতে, গত পাঁচ দিনে ইউক্রেন প্রায় ৭৮ বর্গমাইল এলাকা পুনর্দখল করেছে, যা গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার অর্জিত অগ্রগতির সমান। রাশিয়ার স্টারলিংক যোগাযোগ ব্যবস্থায় অচলাবস্থার কারণে রুশ বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।
বিতর্কিত প্রস্তাব ও রুশ অবস্থান
যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ইউক্রেনীয় বাহিনী দনবাসের বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সরে আসবে এবং ওই অঞ্চলকে একটি ‘মুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল’ করা হবে। এর জবাবে জেলেনস্কি বলেন, যদি মস্কোকেও সমান দূরত্বে সেনা সরাতে বাধ্য করা হয়, তবেই তিনি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
এদিকে মস্কোর প্রধান আলোচক ভ্লাদিমির মেদিনস্কি দাবি করেছেন, জেলেনস্কি আসলে শান্তি চান না, বরং আগামী নির্বাচনের আগে সস্তা জনপ্রিয়তা খুঁজছেন। মেদিনস্কির নিয়োগের সমালোচনা করে জেলেনস্কি তাঁকে ‘ছদ্ম ইতিহাসবিদ’ বলে অভিহিত করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই শান্তি আলোচনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, স্টারমার ইউক্রেনে রাশিয়ার বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং একটি ‘ন্যায়সংগত ও টেকসই’ শান্তির ওপর জোর দিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরে পা দিতে যাচ্ছে। জেনেভার আলোচনা বুধবারও চলবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব রুস্তেম উমেরভ। তবে ভূখণ্ড ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থান কোনো বড় অগ্রগতির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।