জীবনের বাঁকে বাঁকে খাঁদ আর এই খাঁদ পেরিয়ে যে দুরের অস্তমিত সূর্যকে ছুঁতে পারে তাহলে সে কি সাফল্য মণ্ডিত কিংবা সিঁড়ি বেয়ে আকাশ ছোঁয়ার সুপ্ত বাসনা! না কোনোটাই মন্দ ভাবনা নয়। বরং বৃত্তের কাছাকাছি থেকেও বৃত্তকে ছুঁতে না পারার আফসোসে জীবন ক্ষয়ে ক্ষয়ে না গেলেও মনেহয় জীবনে বড্ড ঠকা, ঠকে গেছি। আসলে কি জানেন, জীবন বন্দনা ভালো তবে তা অতিমাত্রায় কখনোই নয়। একটা সময় ছাত্র-ছাত্রী পড়াতাম। কেউ টাকা দিতো কেউ টাকা দিতোনা। যারা টাকা দিতোনা তাতে আমার কোনো আক্ষেপ ছিলোনা বা কিছুই যেতো আসতোনা। কারণ আমাদের আর্থিক দৈন্যতা কিংবা আমার আত্মার দৈন্যতা তখনো এতো নীচুতে নামেনি বা আমাদের সংসারের এতোটা ভরাডুবি হয়নি শুধু অর্থের তাগিদে মানুষকে পড়াতে হবে। আসলে দুটো বিষয় আমার কাছে ভালো লাগতো মানুষকে পড়াতে আর নিজে পড়তে।( অবশ্য পাঠ্যবই নয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর বই।) আজ ভাতিজার ছেলেকে নিয়ে বাইরে বের হয়েছি কারণ নাতি নতুন হাঁটা শিখেছে তাই তিনি হাঁটবেন। হঠাৎ দেখি লম্বা একটি মেয়ে আমার সামনে দাঁড়িয়ে। সাথে একটা পুরুষ আর অল্প বয়সের দুটো ছেলে মেয়ে। আমি মুখের দিকে না তাকিয়ে চলে যাচ্ছিলাম। মেয়েটি আমার পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে বললো, ফুফু দাঁড়ান।আমি মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি শায়লা। আমি বলি, আরে শায়লা কেমন আছিস? শায়লার চটজলদি উত্তর ফুফু প্রায় ত্রিশ বছর পরে আপনার সাথে দেখা। তারপর শায়লা তার স্বামীকে বলে,তিনি আমার ফুফু আবার আমাদের মেডামও। এবার শায়লা আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, ফুফু আপনি ঠিক আগের মতোই আছেন। আসলে কি জানেন ফুফু, যাদের মন ভালো তারা মনের আলোয় ফুটফুটে জোসনাকেও হার মানিয়ে দেয়। আপনার চোখে মুখে মনের অদ্ভুত সৌন্দর্য ঠিকরে পরছে। ফুফু, আপনার কথা শুনেছি আমি। তবে আমার বিশ্বাস যদি ভুল না হয় আপনার সারল্য আপনাকে অনেক উপরে একদিন নেবেই। কথাটা লিখে রাখুন। যদি ফলাফল মিলে যায় কথা দিন, অন্তত আমাকে আপনি জানাবেন। এই কথার পরে আর কোনো কথা চলে না। কে বলে আমি ঠকে গেছি। যারা নিজেদের অতি বুদ্ধিমান বলে নিজেকে ভুল পথে চালিত করে অন্যের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খেয়ে নিজেকে বুদ্ধিমান বলে দাবী করে বা চালিয়ে দেয় অন্তত প্রাপ্তি স্বিকার করে তাহলে দোষের কি? বরং পাশের মানুষটি অনেক খুশি হয়, অন্তর থেকে দোয়া আসে। আর যদি গেইমের ফলাফল মাঠে না নিয়ে গিয়ে নিজেই একা ভোগ করে তাহলে কিছুই করার নেই। আদতে বুদ্ধির ভাড়াম্বর নিয়ে আর প্রশ্ন তোলে কে? তবে যারা বোঝার তারা ঠিকই বোঝে। বোঝার জন্যে নিত্যি ধরতে হয়না। আসলে কি জানেন, ১/মন ভালো যার সে-ই ভালো মানুষ। ২/ ভালো মানুষ ঠকে যায় কারণ সে চতুর নয়। ৩/ ভালো মানুষ শোধ-বোধের ধার ধারেনা। ৫/ এক শ্রেণির মানুষ দুনিয়ায় নিতে আসে আরেক শ্রেণির মানুষ দুনিয়ায় দিতে আসে। কি পেলো কি পেলো না ক ভালো মানুষটি তার ধার ধারেনা। ৬/ শিক্ষিত মানুষের চেয়ে একজন মূর্খের চতুর অনেক বেশী হয়। কারণ বই পত্র আর কিছু না শেখালেও অন্তত চতুরতা শেখায়না। ৭/ আর কিছু মানুষের মাঝে চতুরতা রক্তের মাঝে বিরাজমান। (উল্লেখ এই শায়লা ছাড়াও অগুনিত ছাত্র-ছাত্রী আমার আছে। তারা আমাকে এখনো আগের মতো ভয় পায় সমীহ করে)।