ঢাকা: রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি হুন্ডি ও ডলার পাচার নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশের ডলার বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাজার থেকে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আজকের পত্রিকাকে জানান, ছয় মাসের মধ্যে ডিসেম্বর মাসেই সবচেয়ে বেশি ডলার কেনা হয়েছে, যার পরিমাণ ৯২ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট কেনা ডলারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ৪৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার দিয়ে ডলার কেনা শুরু হয়। এরপর আগস্টে কেনা হয় ৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বর মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। তবে অক্টোবর ও নভেম্বরে ডলার কেনার পরিমাণ কমে যথাক্রমে ১৪ কোটি ২০ লাখ এবং ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে নেমে আসে। ডিসেম্বর মাসে আবার বড় উল্লম্ফন ঘটে, কেনা হয় ৯২ কোটি ১০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং চ্যানেলের শক্তিশালীকরণ এবং অনলাইনে আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজার মনিটরিংয়ের ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি ওভার ও আন্ডার ইনভয়েসিং নিয়ন্ত্রণে আসায় ব্যবসার আড়ালে ডলার পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এসব কারণে ব্যাংকগুলোতে জমে থাকা অতিরিক্ত ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আগের অর্থবছরগুলোর তুলনায় এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। যেখানে ২০২১–২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন, ২০২২–২৩ এ ১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩–২৪ এ ১২ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সেখানে বর্তমানে তারা ডলার ক্রেতার ভূমিকায় রয়েছে। এই পরিবর্তন বাজারে স্থিতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমানে খোলাবাজারে ডলারের দর ১২৪ থেকে ১২৫ টাকার মধ্যে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল প্রায় ১৩১ টাকা। এছাড়া ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশে পণ্য আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এটি আমদানি, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক বাজার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হয়েছে।”
সব মিলিয়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং ডলার পাচার কমে আসায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয় কার্যক্রম দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।