৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৭ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি শত রোগী

admin
প্রকাশিত ২৪ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ২২:৫৫:৩৩
ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি শত রোগী

Manual5 Ad Code

পটুয়াখালীতে প্রচণ্ড গরমে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই প্রায় এক শ রোগীকে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

হাসপাতালগুলোতে শয্যা-সংকটের কারণে রোগীরা মেঝে, বারান্দায় বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপাশি সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ দৃশ্য দেখা গেছে। রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

Manual1 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ জন। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত জেলায় ৫ হাজার ৩৯৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৫ হাজার ১৬৯ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২২৪ জন। তাঁদের মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে ১৩৪ রোগী।

Manual8 Ad Code

বাউফল উপজেলার কালিশ্বরি ইউনিয়ন থেকে আসা জালাল উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘১২ দিন যাবৎ পাতলা পায়খানা। ওষুধ খাই, কমে বাড়ে, কিন্তু একেবারে যায় না। তাই গতকাল হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছি। এখন কিছুটা ভালো।’

হাসপাতালে ওয়ার্ডের ভেতর শয্যা না পেয়ে বারান্দায় বিছানা পেতে চলছে চিকিৎসা। ছবি: আজকের পত্রিকা
Manual6 Ad Code

দুমকি উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সালমা ইসলাম (২৯) বলেন, ‘হঠাৎ করে পেট খারাপ হয়েছে। সম্ভবত গরমের কারণে। তিন দিন হইছে হাসপাতালে ভর্তি। বেড পাই নাই। বারান্দায় নিচে বিছানা করে আছি। হাসপাতালের যে অবস্থা, তাতে ডায়রিয়া আরও বাড়বে।’

এদিকে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের জন্য জেলায় ১০০০ সিসি স্যালাইন ২ হাজার ৬২৩ ব্যাগ এবং ৫০০ সিসি স্যালাইন ৩ হাজার ৩৯৩ ব্যাগ মজুত রয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয়। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে এবং ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে স্যালাইনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, ‘প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। রোগীর চিকিৎসায় কলেরা স্যালাইন ও অ্যান্টিবায়োটিক স্যালাইন—সবকিছু হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করি।’

এই চিকিৎসক জানান, রোগীরা যেন ফের নতুন করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত না হন সে জন্য তাঁদের স্বাস্থ্য বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের কারণে লোকজন রাস্তার পাশে যেসব শরবত পান করেন, তা বিশুদ্ধ পানির না হওয়ায় এবং পচাবাসি খাবারের কারণেও ডায়রিয়া ছড়াতে পারে। ডায়রিয়া থেকে মুক্ত থাকতে হলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা আবশ্যক।