
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আজ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তথ্যমতে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। বাতাসের মান সূচক (AQI) ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় আজ ঢাকার বাতাসকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৩১৬। বায়ুমানের বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৩০০ পার হলে সেই বাতাস জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এলাকাটি আজ সবচেয়ে বেশি দূষিত (স্কোর ২৭৫)। এ ছাড়া তালিকায় রয়েছে উত্তর বাড্ডা, সাগুফতা, দক্ষিণ পল্লবী, গুলশান লেক পার্ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন এলাকা।
আজকের রিয়েল-টাইম র্যাংকিং অনুযায়ী দূষণে শীর্ষ পাঁচটি শহর হলো:
ঢাকা, বাংলাদেশ (স্কোর: ৩১৬)
লাহোর, পাকিস্তান (স্কোর: ২৪০)
কলকাতা, ভারত (স্কোর: ২০১)
কাঠমান্ডু, নেপাল (স্কোর: ১৮২)
উলানবাটার, মঙ্গোলিয়া (স্কোর: ১৮১)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাতাসে দূষণের প্রধান কারণ হলো পিএম ২.৫ (PM2.5) বা অতিসূক্ষ্ম ধূলিকণা। ২.৫ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট এই কণাগুলো সরাসরি ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে মিশে গিয়ে হৃদরোগ, ব্রঙ্কাইটিস ও হাঁপানির মতো প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে। অনিয়ন্ত্রিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, আশপাশের ইটভাটা এবং শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বাতাসের এই বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানিয়েছে:
মাস্ক ব্যবহার: বাইরে বের হলে অবশ্যই কার্যকর মাস্ক পরতে হবে।
সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট রোগীদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নির্মাণবিধি: নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা এবং দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গৃহস্থালি সতর্কতা: ঘরের জানালা বন্ধ রাখা এবং সম্ভব হলে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের (BMJ) তথ্যমতে, জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত বায়ুদূষণে বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গৃহস্থালি ও বাইরের দূষণ মিলিয়ে বছরে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে।