ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না হওয়া পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে সালিসি কার্যক্রমে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে হাইকোর্ট।
বুধবার (২০ নভেম্বর) বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি ঊর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
রিটের প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন।
রিটে তিনি আদানি গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিটিকে ‘অসম, অন্যায্য ও দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে দাবি করেন। পাশাপাশি চুক্তির শর্ত সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সংশোধনের দাবি জানান। আদানি গ্রুপ রাজি না হলে চুক্তি বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা
রিটের শুনানির পর হাইকোর্ট আদানি গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশের সব বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের জন্য উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধান কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল।
এ ছাড়া দুই মাসের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না, তা জানতে চেয়ে রুল জারিও করা হয়।
সালিস নিষেধাজ্ঞার কারণ
আইনজীবী আব্দুল কাইয়ুম বলেন,
“চুক্তির বিষয়ে তদন্ত চলমান। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই যদি আদানি গ্রুপ সিঙ্গাপুরে সালিসি কার্যক্রম শুরু করে, তাহলে তদন্তের গুরুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে। কারণ চুক্তিতে অনেক অনিয়ম রয়েছে।”
তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত আজ আদানি গ্রুপকে সালিসি কার্যক্রমে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।