নিজস্ব প্রতিবেদক | রংপুর ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জে গত বছর সংঘটিত মব লিঞ্চিং বা গণপিটুনিতে রূপলাল ও প্রদীপ লাল নামের শ্বশুর-জামাতাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে বাদীকে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তারাগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মামলার বাদী ও রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার ঘনিরামপুর গ্রামে চোর সন্দেহে রূপলাল ও তাঁর ভাগনি জামাই প্রদীপ লালকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। তবে সম্প্রতি মামলার অন্যতম আসামি মো. রুবেল পাইকার জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে হুমকি-ধমকি।
বাদীর অভিযোগ ও নিরাপত্তাহীনতা
ভারতী রানী জানান, গত ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে তিনি ও তাঁর ছেলে জয়ের পথরোধ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন জামিনে থাকা আসামি রুবেল পাইকার। এছাড়া সোহাগ নামের আরেক অভিযুক্ত প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
ভারতী রানী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছিলাম, এখন আমাকে ও আমার সন্তানকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে সামান্য দোকান দিয়ে সংসার চালায়, এখন সেও ভয়ে আছে। আমরা খুব অসহায় বোধ করছি।”
[Image representing a legal document or a courthouse scene reflecting justice and safety concerns]
অভিযুক্ত ও পুলিশের ভাষ্য
হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসামি রুবেল পাইকার। তিনি বিষয়টিকে ‘বানোয়াট’ ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে, আরেক অভিযুক্ত সোহাগের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তারাগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, তিনি বর্তমানে আদালতে রয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যা ঘটেছিল সেই রাতে
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রাতে ভাগনি জামাই প্রদীপ লাল পথ ভুলে গেলে তাঁকে এগিয়ে আনতে যান মামাশ্বশুর রূপলাল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাঁদের চোর সন্দেহে আটক করে দফায় দফায় মারধর করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।