আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে স্বদেশে ফেরা এবং সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বরাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে একটি বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করেছে বিশ্বখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ‘টাইম’।
জানুয়ারির শুরুতে টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পাঁচটি প্রধান দিক তুলে ধরেছেন।
১. জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চ্যালেঞ্জ
টাইম-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিগত ১৫ বছরের শাসনকালে বিচারবহির্ভূত গুম এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু দেশে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। তারেক রহমান জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য হবে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন,
“প্রতিশোধ কিছুই ফিরিয়ে আনবে না। আমরা যদি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারি, তবেই বড় কিছু অর্জন সম্ভব।”
২. অর্থনীতির পুনরুদ্ধার: ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও তরুণদের কর্মসংস্থান
উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং বেকারত্ব বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান বাধা। তারেক রহমান তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং ব্যাংকিং খাত উদারীকরণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে নারী ও বেকারদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মাধ্যমে নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বৈদেশিক আয় বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
৩. ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ
আঞ্চলিক শক্তি ভারত এবং প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন তারেক রহমানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
-
ভারত: তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে তিনি জাতিসংঘ পানি কনভেনশনে স্বাক্ষরের মাধ্যমে ‘ন্যায্য অধিকার’ আদায়ের কথা বলেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “আমরা অবশ্যই প্রতিবেশী, তবে বাংলাদেশের স্বার্থই আগে।”
-
যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে শুল্ক সুবিধা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। মার্কিন তুলা ব্যবহারে তৈরি পোশাকে শুল্কমুক্ত সুবিধার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে তাঁর দল।
৪. রাজনৈতিক সমীকরণ ও ইসলামপন্থা
নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল রয়েছে। যদিও বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে, তবে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্টের আগের স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থায় যেন দেশ ফিরে না যায়, সেজন্য সব গণতান্ত্রিক দলকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।
৫. ছাত্র আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ভবিষ্যৎ
জুলাই বিপ্লবের রূপকার ছাত্রদের প্রত্যাশা পূরণ করা নতুন সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব। নির্বাচনে প্রথাগত দলগুলোর আধিপত্য দেখে অনেক তরুণ হতাশ হলেও তারেক রহমান মনে করিয়ে দিয়েছেন, যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের বড় ঋণ ও দায়িত্ব রয়েছে।
এক নজরে নির্বাচনি ফলাফল
মার্কিন ম্যাগাজিনটি উল্লেখ করেছে, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি প্রায় ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে, যা তাকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী ম্যান্ডেট দিয়েছে।
পর্যবেক্ষণ: টাইম ম্যাগাজিনের এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বিশ্ব সম্প্রদায় এখন তারেক রহমানকে একজন পরিণত এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী নেতা হিসেবে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।