৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তারেক রহমানের দেশে ফেরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচার, নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছে বিশ্ব

admin
প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ২১:২৫:৫০
তারেক রহমানের দেশে ফেরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্বসহকারে প্রচার, নির্বাচনের আগে বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছে বিশ্ব

Manual3 Ad Code

ঢাকা, [তারিখ]:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘটনাকে গুরুত্বসহকারে কভার করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বিশ্বখ্যাত এসব গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মুখ্য ইভেন্ট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানায়, প্রায় ১৭ বছর নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরেছেন। বিএনপি আশা করছে, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের আগে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নতুন করে উদ্দীপ্ত করবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দুপাশে লাখো নেতা-কর্মী ও সমর্থক দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফুল হাতে তাঁকে স্বাগত জানান। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বিমানবন্দরে তাঁকে বরণ করেন।

Manual3 Ad Code

রয়টার্স আরও উল্লেখ করে, বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তারেক রহমান জুতা খুলে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং এক মুঠো মাটি তুলে নেন। জনসমাবেশে তিনি ‘প্রিয় বাংলাদেশ’ বলে বক্তব্য শুরু করেন এবং সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও ঐক্যের অঙ্গীকার করেন। শান্তি, গণতন্ত্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তনে আগামী নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলেও মত দিয়েছে সংস্থাটি।

Manual8 Ad Code

অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) জানায়, লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান সমর্থকদের উদ্দেশে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া এবং শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি অস্থায়ী প্রশাসনের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির সময় রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মুহূর্তে তাঁর দেশে ফেরা ঘটেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ঢাকায় ফেরার সময় বিমানবন্দর থেকে যাত্রাপথে হাজার হাজার সমর্থক তারেক রহমানকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানান। একাধিক মামলার কারণে দীর্ঘদিন তিনি দেশে ফিরতে পারেননি। ২০০৬–০৮ সালে সামরিক-সমর্থিত সরকারের সময়ে নিরাপত্তা হেফাজতে নির্যাতনের পর চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান। পাশাপাশি গুরুতর অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারণে তাঁর দেশে ফেরা ব্যক্তিগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আল-জাজিরা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির আবারও ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক জরিপে বিএনপির এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন সামনে রেখে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে দেশের ভঙ্গুর রাজনৈতিক রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১৭ বছর নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং প্রভাবশালী জিয়া পরিবারের প্রধান মুখ। তিনি ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছিলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরতে আশাবাদী বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।

Manual8 Ad Code

এ ছাড়া ব্রিটিশ দৈনিক দি ইনডিপেনডেন্ট তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে বাংলাদেশের নতুন বছরের রাজনৈতিক মূল ইভেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, প্রায় ১৭ বছর স্বেচ্ছানির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত বিপুল সমর্থকের ঢল নামে। সমাবেশে তিনি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন এবং অসুস্থ মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের গতিপ্রকৃতির একটি বড় সংকেত হিসেবে দেখছেন।

Manual5 Ad Code