৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শক্তিশালী করবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

admin
প্রকাশিত ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, ২০২৫ ২১:৩৩:১২
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা শক্তিশালী করবে: হাসনাত আবদুল্লাহ

Manual3 Ad Code

ঢাকা, [তারিখ]:
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

Manual5 Ad Code

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন ভেঙে তারেক রহমানের দেশে ফেরা কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তাঁর মতে, এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে যে, একজন বাংলাদেশি নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মাধ্যমেও স্থায়ীভাবে রুদ্ধ করা যায় না।

তিনি লেখেন, স্বৈরাচার যত শক্তিশালীই হোক না কেন, জনগণের রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তিকে চিরতরে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে তারেক রহমান ও তাঁর পরিবার যেভাবে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং দীর্ঘ নির্বাসনে বাধ্য হয়েছেন, তা গত দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের এক উন্মুক্ত দলিল। তবে তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়েছে হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ, অসংখ্য আহতের ত্যাগ এবং গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সৃষ্ট নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে।

Manual8 Ad Code

অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ের আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে তিনি লেখেন, নতুন বাংলাদেশে ভিন্নমত কোনো অপরাধ হবে না; বরং তা হবে একটি মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে কাউকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হতে হবে না, বরং রাষ্ট্রই নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তাঁর মতে, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক বিষয় নয়; এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠিত হওয়ার অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যম।

Manual2 Ad Code

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিসর ভেঙে আজ একটি মুক্ত বাংলাদেশের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। এই পথে আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে মূল সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম যেন কোনো ব্যক্তি বা দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং জনগণের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা পায়—এটি নিশ্চিত করা সব রাজনীতিবিদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Manual4 Ad Code

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রামে তারেক রহমানের সক্রিয় অংশগ্রহণ জনগণের প্রত্যাশা ও ইতিহাসের দায় পূরণে ভূমিকা রাখবে।