নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৪ মার্চ, ২০২৬
রাজধানীর তুরাগে তারাবির নামাজের সময় ঘরে ঢুকে গৃহিণীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনায় জড়িত দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নূরে আলম বাঘ (৪৭) ও রাসেল মাতব্বর ওরফে রাসেল ইসলাম জনি (২৫)।
অভিযান ও উদ্ধার
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তুরাগের ১৫ নম্বর সেক্টর থেকে প্রথমে নূরে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের একটি অফিস থেকে লুট হওয়া এক জোড়া স্বর্ণের চুড়ি, একটি চেইন, একটি পিতলের নাকফুল এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও ভাঙা চশমা উদ্ধার করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে উত্তরা উত্তর মেট্রো স্টেশন এলাকা থেকে দ্বিতীয় অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
গত সোমবার (২ মার্চ) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তুরাগের ১৫ নম্বর সেক্টরের ই-ব্লকের একটি বাড়িতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত রেজিনা মমতাজ (৪৯) সোনালী ব্যাংকের সাবেক জেনারেল ম্যানেজার মাহে আলমের স্ত্রী।
ঘটনার সময় রেজিনার স্বামী তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদে গিয়েছিলেন। সোয়া ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রীকে হাত-পা বাঁধা এবং নাক-মুখে স্কচটেপ প্যাঁচানো অবস্থায় অচেতন পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেছে
সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ জানায়, রাত সোয়া ৮টার দিকে দুজন মুখোশধারী ব্যক্তি বাসায় প্রবেশ করে। তারা রেজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন নিহতের স্বজনরা।