২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

তৃণমূল থেকে মন্ত্রিসভায়: সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর নতুন ইতিহাস

admin
প্রকাশিত ১৯ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১২:৩১:৪৬
তৃণমূল থেকে মন্ত্রিসভায়: সিলেটের রাজনীতিতে আরিফুল হক চৌধুরীর নতুন ইতিহাস

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Manual8 Ad Code

সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ কাউন্সিলর থেকে শুরু করে দুই মেয়াদে নগরপিতা, আর এখন সরাসরি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী—আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক উত্থান যেন কোনো রোমাঞ্চকর গল্পের চেয়ে কম নয়। ২৩ বছরের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি এখন সিলেটের রাজনীতির অন্যতম প্রধান কাণ্ডারি।

কাউন্সিলর থেকে নগরপিতা

আরিফুল হক চৌধুরীর জনপ্রতিনিধি হওয়ার যাত্রা শুরু হয় ২০০৩ সালে, সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে। তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতা অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দিয়ে নজর কাড়েন।

পরবর্তীতে ২০১৩ সালে সিলেটের রাজনীতির ‘কিংবদন্তি’ বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে পরাজিত করে তিনি প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও একই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয়বার মেয়রের চেয়ারে বসেন তিনি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে তিনি যে ত্যাগের পরিচয় দিয়েছিলেন, তারই ফলশ্রুতিতে এবার জাতীয় রাজনীতির বড় মঞ্চে তাঁর অভিষেক হলো।

সংসদ নির্বাচনে ‘ভূমিধস’ জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আরিফুল হক চৌধুরী। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পান ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনকে (৬৯,৯৭৫ ভোট) ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি চমক সৃষ্টি করেন।

দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব

এই বিশাল জয়ের পুরস্কার হিসেবে দল ও সরকার তাঁকে পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়েছে। তিনি একই সাথে গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন:

  • প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

  • শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়

সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া এই অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Manual4 Ad Code

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন

১৯৫৯ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করা আরিফুল হক চৌধুরী ছাত্রজীবনেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৭৯ সালে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ওয়ান-ইলেভেনের প্রতিকূল সময়ে কারাবরণ করলেও রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হননি তিনি।

Manual5 Ad Code

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সাথে সিলেট-৪ আসনের ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই বিজয় সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের প্রতিফলন।

Manual4 Ad Code