সিলেটের রাজনীতিতে একটি জনপ্রিয় প্রবাদ আছে— “সিলেট-১ যার, সরকার তার।” এই প্রবাদকে সামনে রেখেই এবারও সিলেটের সংসদীয় আসনগুলোতে বইছে উৎসবমুখর নির্বাচনী হাওয়া। দীর্ঘ দেড় দশক পর আওয়ামী লীগহীন এই নির্বাচনে মূলত লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের মধ্যে।
১. সিলেট-১ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন)
মর্যাদাপূর্ণ এই আসনে এবার বহুমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।
-
মোট ভোটার: ৬,৮০,৯৪৬ জন।
-
প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বিএনপি) ও মাওলানা হাবিবুর রহমান (জামায়াত)।
-
বিশ্লেষণ: খন্দকার মুক্তাদির তাঁর বাবার (প্রয়াত আব্দুল মালিক) পারিবারিক ইমেজ ও ধানের শীষের গণজোয়ারের ওপর ভরসা করছেন। অন্যদিকে, মাওলানা হাবিবুর রহমান জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি নিয়ে এগোচ্ছেন।
২. সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর)
প্রবাসীদের ভোটের প্রভাব ও ‘ইলিয়াস আলী’ আবেগ এই আসনের তুরুপের তাস।
-
মূল প্রার্থী: তাহসিনা রুশদী লুনা (বিএনপি) এবং মুহাম্মদ মুনতাছির আলী (১০ দলীয় জোট/দেয়াল ঘড়ি)।
-
বিশ্লেষণ: নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনার প্রতি ভোটারদের তীব্র সহানুভূতি রয়েছে। তবে মুনতাছির আলীর ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরীর উপস্থিতি ভোটের হিসেবে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
৩. সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ)
সিলেটের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই আসনে প্রবাসী ভোটাররাই মূলত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন।
-
মোট ভোটার: ৪,১৬,০০০ জন।
-
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী: মোহাম্মদ আব্দুল মালিক (বিএনপি) ও আতিকুর রহমান (জাতীয় পার্টি)।
-
বিশ্লেষণ: ঐতিহাসিকভাবে এই এলাকায় বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোস্তাকিম রাজা চৌধুরীর সক্রিয়তা এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে।
৪. সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর)
সাবেক সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর আগমনে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেছে।
-
মোট ভোটার: ৫,১২,৯৩৩ জন।
-
মূল প্রতিদ্বন্দ্বী: আরিফুল হক চৌধুরী (বিএনপি) ও জয়নাল আবেদীন (জামায়াত)।
-
বিশ্লেষণ: বিএনপির হাই কমান্ডের নির্দেশে সিলেট-১ ছেড়ে এই আসনে আসা আরিফুল হকের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা। অন্যদিকে, স্থানীয় জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের (জামায়াত) শক্ত অবস্থান এই আসনটিকে ‘প্রেস্টিজ ফাইটে’ পরিণত করেছে।