
নিজস্ব প্রতিবেদক | কুমিল্লা ও দিনাজপুর
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে নিহত সাত শ্রমিকের মরদেহ নিতে দাউদকান্দি থানায় পৌঁছেছেন তাঁদের স্বজনেরা। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর থেকে স্বজনেরা সেখানে পৌঁছান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো নিজ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হবে।
সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার হাসানপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দিনাজপুর থেকে আসা চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। নিহত ও আহতরা সবাই দক্ষিণবঙ্গে ধান কাটার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া শ্রমিক ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৩ জন এবং বিরামপুর উপজেলার ৪ জন রয়েছেন:
নবাবগঞ্জ উপজেলার নিশিথপুর ও মিশনপাড়া এলাকা: ১. মোহাম্মদ আফজাল হোসেন (৩৫), পিতা- মো. আজাদ। ২. সোহরাব হোসেন (৪০), পিতা- মো. আলম। ৩. আব্দুস সালেক (৪৫), পিতা- ফজলুর রহমান। (সোহরাব ও সালেক সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা)।
বিরামপুর উপজেলার নিশিবাপুর (ভাইগড়) গ্রাম: ৪. সুমন (২১), পিতা- পলাশ। ৫. আবু হোসেন (২৯), পিতা- মজিরুল। ৬. আব্দুর রশিদ (৫৮), পিতা- রাকিবুল্লা। ৭. বিষু মিয়া (৩৪)।
একসঙ্গে সাত শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলায় শোকের মাতম চলছে। নিহত আব্দুস সালেকের ছেলে সাগর জানান, অর্থাভাবে তাঁর পড়াশোনা বর্তমানে বন্ধ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবাকে হারিয়ে তাঁরা এখন দিশেহারা। স্বজনহারা তরিকুল ইসলাম জানান, তাঁর ভাই, ভাতিজা ও তালতো ভাইকে একসঙ্গে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন বাকরুদ্ধ।
বিরামপুরের ৬ নম্বর জোতবানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক এবং নবাবগঞ্জের কুচদহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সবিবুর রহমান জানান, মরদেহগুলো দ্রুত এলাকায় ফিরিয়ে নিতে তাঁরা বর্তমানে দাউদকান্দি থানায় অবস্থান করছেন।
দাউদকান্দি থানা পুলিশ জানিয়েছে, আইনি কার্যক্রম শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। আহত পাঁচজনকে বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।