দিনাজপুর সদর উপজেলায় বাসচাপায় অটোরিকশার চার আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে— তাঁরা নানি-নাতনি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কের খোসালপুরে গম গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুই পাশে কয়েক শ যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রী ও চালকের জন্য ভোগান্তি তৈরি হয়।
নিহতরা হলেন— চিরিরবন্দর উপজেলার মাঝিরা গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে সাদিয়া বেগম (১৫) ও সদর উপজেলার খানপুর কুইতর এলাকার ইয়াকুব আলীর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন (৫৫)। তাঁরা সম্পর্কে নানি-নাতনি। নিহত অন্য নারী ও শিশুর পরিচয় এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
এলাকাবাসী ও পুলিশের তথ্যমতে, মকবুল হোসেন নামের এক বৃদ্ধ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অটোরিকশাযোগে কান্তনগর কান্তজিউ মন্দিরের মেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। ঠাকুরগাঁও থেকে আসা একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে কয়েকজন আরোহী ছিটকে সড়কে পড়ে যান। পরে বাসটি তাঁদের চাপা দেয়। স্থানীয়রা ধাওয়া করে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে বাসটি আটক করেন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান।
অটোরিকশার আরোহী মকবুল হোসেন (৭৯) জানান, তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে রাসমেলায় যাচ্ছিলেন। খোসালপুর এলাকায় সামনে থেকে একটি বাস দ্রুতগতিতে এসে অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এরপর কী ঘটেছিল তিনি মনে করতে পারছেন না।
স্থানীয় চা দোকানি কামাল হোসেন বলেন, ‘শব্দ শুনে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেছে। বাসটা কয়েকজনকে চাপা দিয়ে পালাতে চাইছিল। ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা গেছেন।’
দিনাজপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। বাসটি জব্দ করা হলেও চালক ও সহকারী পলাতক। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করা হচ্ছে।