ময়মনসিংহ, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর)
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামে নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ তথ্য জানান শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার।
তিনি বলেন, দীপু চন্দ্র দাসের স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের প্রয়োজনীয় দেখভালের দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের প্রয়োজন কীভাবে পূরণ করা হবে, তা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন উপদেষ্টা।
দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ডকে ‘নৃশংস অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে সি আর আবরার বলেন, বাংলাদেশ একটি আইন-শাসিত রাষ্ট্র। কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তের সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের বসবাস এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করে। অভিযোগ, গুজব কিংবা বিশ্বাসগত পার্থক্য কোনোভাবেই সহিংসতার অজুহাত হতে পারে না।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার কারণে আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সি আর আবরার বলেন, এসব ঘটনার কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং বাইরের কোনো উসকানিতেও নির্বাচন প্রভাবিত হবে না।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর ভালুকা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।
নিহত দীপু চন্দ্র দাস ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি গত দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন।