দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও মালয়েশিয়া যেতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের প্রেরণ কার্যক্রম অবশেষে শুরু হয়েছে। সরকারিভাবে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনায় আজ মঙ্গলবার প্রথম দফায় ৬০ জন কর্মী মালয়েশিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগ করেছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী লাউঞ্জে উপস্থিত থেকে কর্মীদের বিদায় জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এই উদ্যোগকে তিনি ‘দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত’ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিক সহযোগিতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন,
“২০২৪ সালের ৩১ মের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করেও হাজারো কর্মী বিভিন্ন জটিলতার কারণে যেতে পারেননি। তাঁদের অপেক্ষার অবসান হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা তাঁদের মালয়েশিয়া পাঠানোর কাজ শুরু করেছি।”
তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সমর্থনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক থাকা ১৮৮ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, এবং তাঁদের পুনর্বাসনে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।
কর্মীদের পক্ষ থেকে রনি মিয়া বলেন,
“আমরা অনেকদিন অনিশ্চয়তায় ছিলাম। অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা আসিফ নজরুল স্যারের উদ্যোগে আমাদের স্বপ্নপূরণ হলো।”
পটভূমি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া
২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে আটকে থাকা কর্মীদের গ্রহণের অনুরোধ জানান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এরপর ১৩–১৬ মে উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর মালয়েশিয়া সফরের পর অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়।
২১–২২ মে বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ সভায় ১৭,৭৭৭ কর্মীর মধ্যে ৭,৮৭৩ জন যেতে না পারা কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব বোয়েসেলকে দেওয়া হয়।
প্রাথমিকভাবে কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম—এই দুই খাতে কর্মী পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত ৭ আগস্ট Construction Labour Exchange Center Berhad (CLAB)-এর সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রথম ধাপে ৫০০ জন কর্মীর চাহিদা পাওয়া গেলে, তাঁদের মধ্যে ২৫৫ জনের ভিসা ইতোমধ্যে ইস্যু হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন
-
বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম
-
বিএমইটি ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক
-
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
-
বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক
-
বিমানবন্দর নির্বাহী পরিচালক