২৪শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামি সুশাসনের অঙ্গীকার: খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

admin
প্রকাশিত ০৬ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, ২০২৬ ২০:৩৫:২৩
দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামি সুশাসনের অঙ্গীকার: খেলাফত মজলিসের ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Manual1 Ad Code

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক ইসলামি সুশাসনের’ অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। আজ শুক্রবার রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির মাওলানা মামুনুল হক।

ইশতেহারের মূল কাঠামো

পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত এবং মোট ২২ দফা সংবলিত এই ইশতেহারে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট উত্তরণে একটি সমন্বিত পথনকশা তুলে ধরা হয়েছে।

বিগত শাসনের বিচার ও জবাবদিহি

ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন এবং প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করা হয়। এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি

ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ছয়টি বিশেষ অগ্রাধিকারের কথা জানিয়েছে খেলাফত মজলিস: ১. সুষম উন্নয়ন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ। ২. সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। ৩. শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা। ৪. স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি। ৫. সর্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষাব্যবস্থা। ৬. তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা।

Manual7 Ad Code

অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’

ইশতেহারের চতুর্থ অধ্যায়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ-দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ (Zero Tolerance) নীতি অনুসরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। এসব দমনে প্রয়োজনে বিশেষ আইন ও স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

সামাজিক ও ধর্মীয় দর্শন

ইশতেহারে ইসলামি অর্থনীতি, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। দলের আমির মামুনুল হক বলেন, “রাজনীতি হবে আমানত এবং ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক। রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে।”

Manual2 Ad Code

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ: দলের সিনিয়র নায়েবে আমির ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলালসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।