নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বড় ধরনের দুর্নীতি অনেকটা হ্রাস পেলেও বিভিন্ন পর্যায়ে বদলি ও মামলা-বাণিজ্য এখনো বিদ্যমান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে একটি বদলির জন্য ৮ লাখ টাকা লেনদেনের মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও তিনি তুলে ধরেন।
আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অর্থনৈতিক প্রতিবেদকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বদলির জন্য দিতে হয় ৮ লাখ টাকা’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিদিন শত শত তদবির আসত। আগে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিলেই কাজ হয়ে যেত, মন্ত্রণালয়ে আসার দরকার হতো না। এখন সরাসরি তদবির করতে মানুষ রুমের সামনে ভিড় করে।” দুর্নীতির ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “শুনতে পাই কলেজে একটি বদলি করতে ৮ লাখ টাকা দিতে হয়। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হলেও তারা এসব অনিয়ম এখনো শনাক্ত করতে পারেনি।”
ভঙ্গুর অর্থনীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। তাঁর মতে:
-
জিডিপি প্রবৃদ্ধি: চলতি বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের কাছাকাছি হতে পারে।
-
মূল্যস্ফীতি: মূল্যস্ফীতি এখনো প্রত্যাশিত মাত্রায় কমেনি।
-
ব্যাংক খাতের সংকট: বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতের অবস্থা বাইরে থেকে ভালো মনে হলেও ভেতরে ভেতরে তা অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছিল।
বিগত সরকারের সমালোচনা
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অনিয়ম নিয়ে তিনি বলেন, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বাজেট ব্যবস্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান না হলেও আর্থিক বিশৃঙ্খলার কারণে অর্থনীতি ভেঙে পড়া অনিবার্য ছিল। দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরে অর্থনীতিকে আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছেন।
আগামীর চ্যালেঞ্জ
উপদেষ্টা মনে করেন, বর্তমান সরকার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রত্যাশা পূরণের সরকার। তবে অভ্যুত্থানের পর যুবসমাজ ও শিক্ষাঙ্গনে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা আগামী সরকারের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে বৃত্তি প্রদান করা হয়। এতে ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা বক্তব্য দেন।