২৬শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বাঁচলেন খাইরুল, তীরে উঠতেই মোবাইল ছিনতাই

admin
প্রকাশিত ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৪:২৯:২১
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: ৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বাঁচলেন খাইরুল, তীরে উঠতেই মোবাইল ছিনতাই

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া | ২৬ মার্চ, ২০২৬

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ বাসটি যখন নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল, নিজের জীবন বাঁচাতে খাইরুল ইসলাম খাঁ (২৬) সময় পেয়েছিলেন মাত্র ৫ সেকেন্ড। বাসের দরজা দিয়ে ছিটকে নদীর পানিতে পড়ে কোনোমতে সাঁতরে পাড়ে ভিড়লেও, সেখানে মানবিকতার বদলে নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। নদী থেকে ডঙায় ওঠার পরপরই এক তথাকথিত ‘উদ্ধারকারী’ তাঁর হাত থেকে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয়।

খাইরুল ইসলাম কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার আমবাড়িয়া গ্রামের মৃত কুদ্দুস খাঁর ছেলে। তিনি ঢাকার একটি টেক্সটাইল মিলের মেশিন ম্যান হিসেবে কর্মরত। ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন তিনি।

Manual4 Ad Code

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

খাইরুল জানান, তাঁর সিট নম্বর ছিল বি-২। বুধবার বেলা ২টা ৪২ মিনিটে খোকসা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসটি যাত্রা শুরু করে। ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তাঁর পাশের সিটের যাত্রী (বি-১) নেমে যান এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসেন। খাইরুল তাঁকে বসতে দেওয়ার জন্য নিজের সিট থেকে উঠে দাঁড়ান। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাসটি ফেরিতে ওঠার চেষ্টা করছিল। হঠাৎ একটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনি লাগে এবং তিনি বাসের খোলা দরজা দিয়ে সরাসরি নদীর পানিতে ছিটকে পড়েন।

Manual3 Ad Code

খাইরুল বলেন, “বাসের ভেতরে প্রায় প্রতিটি সিটেই যাত্রী ছিলেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৪০ জনের মতো নারী ও শিশু বাসের ভেতরে আটকা পড়ে তলিয়ে গেছে।”

চালকের মৃত্যু ও সহকারীদের বেঁচে ফেরা

দুর্ঘটনায় বাসচালক আরমান খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপার সিরিয়ালের জন্য বাসের বাইরে অবস্থান করায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। খোকসা কাউন্টার মাস্টার রাকিব বিশ্বাস জানান, চালক নিজেই বাসটি চালাচ্ছিলেন এবং বি-১ ও বি-২ আসনের যাত্রীরা খোকসা থেকেই উঠেছিলেন।

Manual8 Ad Code

হতাহতের সর্বশেষ চিত্র

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এই বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে:

  • মর্জিনা খাতুন (৫৬): কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর এলাকার বাসিন্দা।

  • রাজীব বিশ্বাস (২৮): খোকসা উপজেলার খাগড়বাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা।

  • ইস্রাফিল (৩): খোকসা উপজেলার ধশুন্দু গ্রামের বাসিন্দা।

  • আয়েশা সিদ্দিকা (১৩): শমসপুর গ্রামের বাসিন্দা।

    Manual8 Ad Code

কুষ্টিয়া জেলা বাস মিনিবাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার জানিয়েছেন, বাসটি রাজবাড়ী জেলার মালিকানাধীন হলেও এটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে চলাচল করত। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অসতর্কতা, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।