
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ‘সাদা পাথর’ পর্যটন এলাকায় ঘুরতে এসে স্থানীয় কয়েকজন পর্যটক কথিত সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পর্যটকদের দাবি, নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া এড়াতে বিকল্প মেঠোপথ ব্যবহার করতে গেলে তাদের পথরোধ করে হয়রানি করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সাদা পাথর নৌকা ঘাট থেকে জনপ্রতি বা দলভিত্তিক নৌকা ভাড়া প্রায় ৮০০ টাকা হওয়ায় অনেক স্থানীয় পর্যটক দয়ার বাজারের কালাইরা এলাকার মেঠোপথ ব্যবহার করে বিনামূল্যে সাদা পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যান। তবে সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্র ওই পথে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা এই পথ ব্যবহার করে আসছেন। কখনো এ পথে চলাচলে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি এসে দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে এবং এই পথ দিয়ে যেতে হলে টাকা দিতে হবে। অন্যথায় কাউকে যেতে দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের রাস্তার ‘ইজারাদার’ দাবি করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে বলে পর্যটকদের জানান। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পর্যটক খলিলুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সিলেট সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ভ্রমণে যান তিনি। পথে দয়ার বাজার এলাকায় কিছু ব্যক্তি বাঁশের বেড়া দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে তাদের আটকে দেন।
ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “তারা দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে এবং তারা নাকি রাস্তার ইজারা নিয়েছে। পরে আমাদের প্রতিবাদের মুখে তারা রাস্তার বেড়া সরাতে বাধ্য হয়।”
খলিলুর রহমান আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা রাস্তা বন্ধ বা ইজারার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পর্যটক ও এলাকাবাসীর দাবি, সাদা পাথর এলাকায় যেকোনো ধরনের হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
তবে এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।