১৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৬শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী; ১৫ মার্চের মধ্যেই মিলবে অর্থ

admin
প্রকাশিত ১৪ মার্চ, শনিবার, ২০২৬ ১৩:০৫:৩১
ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী; ১৫ মার্চের মধ্যেই মিলবে অর্থ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়।

Manual6 Ad Code

সম্মানী ও ভাতার বিস্তারিত কাঠামো

সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা এবং মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বণ্টনের হার নিচে দেওয়া হলো:

  • মসজিদ: ইমাম ৫,০০০ টাকা, মুয়াজ্জিন ৩,০০০ টাকা এবং খাদেম ২,০০০ টাকা।

  • মন্দির: পুরোহিত ৫,০০০ টাকা ও সেবায়েত ৩,০০০ টাকা।

    Manual4 Ad Code

  • বৌদ্ধবিহার: অধ্যক্ষ ৫,০০০ টাকা ও উপাধ্যক্ষ ৩,০০০ টাকা।

    Manual5 Ad Code

  • গির্জা: যাজক ৫,০০০ টাকা ও সহকারী যাজক ৩,০০০ টাকা।

    Manual5 Ad Code

এ ছাড়া উৎসব ভাতা হিসেবে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দুই ঈদে ১,০০০ টাকা এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসবে ২,০০০ টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

পাইলট স্কিম ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই একটি ‘পাইলট স্কিম’ চালু করা হয়েছে। এর আওতায়:

  • সারাদেশের ৪,৯০৮টি মসজিদ (প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে একটি)।

  • ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার ও ৩৯৬টি গির্জা প্রাথমিক তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও বাজেট

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল উপাসনালয় এই সুবিধার আওতায় আসবে। পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৪,৪০০ কোটি টাকা বাজেটের প্রয়োজন হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করা হবে।

সম্মানী প্রদানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে একটি স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে।